পাতা:লক্ষণ সেন - দুর্গাদাস লাহিড়ী.pdf/২১৬

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


২১২ লক্ষণ-সেন কথা সেদিন ব’লছিলে নয় ? এদেরই নিবাস কেঁদুলীতে ? ইনিই কি বামাদেবী ?” - সঙ্গিনী উত্তর দিল,—“হঁ। দিদি, এর কথাই সেদিন তোমাকে ব’লছিলাম। ইহঁরই পুত্রের সন্ধানের জন্য মহারাজ পুরুষোত্তমে লোক পাঠিয়েছেন। পুরুষোত্তম যাওয়ার সময় পথে যে তুমি এক ব্রহ্মচারী বালককে দেখার কথা বলেছিলে, সেই বালকই ইষ্টার পুত্র হওয়া সম্ভব।” বামাদেবী আগ্রহাম্বিত হইয়া কাত্যায়নীকে জিজ্ঞান করিলেন,—“হা-মা ! তুৰি সত্য-সত্যই আমার মণিকে দেখেছিলে কি ? গোর-বরণ, বিস্ফারিত-লোচন, নবনীত-কোমল দেহ–সে রূপ যদি একবার দেখে থাক, কখনই ভুলতে পারবে না। ই—ম! তুমি দেখেছ কি তাকে ?” কাত্যায়নী কহিলেন,-“সত্যই সে রূপ ভুলবার নহে। আমার পদ্মাবতী যেমন রূপবতী, সে ব্রহ্মচারী বালকও সেইরূপ রূপসম্পন্ন। কিন্তু সে ব্রহ্মচারী বালক তোমার পুত্র কি না, তাহ বলিতে পারি না । সেরূপ কোনও পরিচয়ই প্রাপ্ত হই নাই । তবে দেখেছি বটে তাকে । দেখেছি আর মনে মনে বলেছি,— ‘পদ্মাবতীর যদি এমন একটা বর মিলিত, বড়ই সুন্দর সাজিত । বলেছি, আর অন্তরে অন্তরে অমৃতপ্ত হয়েছি । জগবন্ধুর চরণে প্রার্থনা জানিয়েছি,—‘জগবন্ধু ! আমার পদ্মাবতীকে তোমার চরণে সমর্পণ করিতে চলিয়াছি। কেন আমার প্রাণে অন্ত চিন্তার উদয় করিয়া দিয়া অামায় পাতকগ্রস্ত করিতেছ?” পরিশেষে, যতবারই ব্রহ্মচারীর প্রতি দৃষ্টি পড়িয়াছে, ততবারই মুখ ফিরাইয়া লইয়াছি;—তাহাকে আর যেন দেখিতে না হয়,