পাতা:লক্ষণ সেন - দুর্গাদাস লাহিড়ী.pdf/২২৮

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


२९8 লক্ষণ-সেন মহারাজ লক্ষ্মণ-সেন বাধা দিয়া কহিলেন,—“সংগ্রাম-সিংহ তুমিও আমায় এইরূপ প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করিতেছ! কিন্তু তোমাকেই জিজ্ঞাসা করি,–বল দেখি, রাজকাৰ্য্য-পরিদর্শনের এখন আর আমার কি প্রয়োজন ? যাহার অভাব আছে, তাহারই আকাঙ্ক্ষা থাকিতে পারে। কিন্তু মনে . কর দেখি, এখন আমার কিসের অভাব ? আমার বীরত্বের বিজয়-পতাকা আজি নভোমণ্ডল ভেদ করিয়া উডডীম হইতেছে! ভারতবর্ষের কোন নৃপতি না আজি আমার প্রাধান্ত মান্ত করে । ইহার উপরও কি আর কিছু প্রয়োজন মনে কর যে, আমায় রাজকাৰ্য্যের তত্ত্বাবধান করিতে হইবে।” সংগ্রাম-সিংহ – মহারাজ ! সকলই সত্য । আপনাকে বুঝাইবার স্পৰ্দ্ধ রাখি না । তবে জানেনই তো— আপন চক্ষে সুবৰ্ণ বর্ষে । নিজের কাজ নিজে যদি একবারও দেখেন, কোনও দিকে বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা থাকে না " লক্ষ্মণ-সেন ।–“আমি মনে করি, আমি নিজেই সকল কাজ পৰ্য্যবেক্ষণ করিয়া থাকি। সংগ্রাম-সিংহ ! তোমরা কি আমা হইতে অভিন্ন ! তোমাদের দ্বারা তত্ত্বাবধান, আর নিজের তত্ত্বাবধান,-আমি অভিন্ন বলিয়াই মনে করি । যাহার সংগ্রামসিংহের স্তায় সেনাপতি আছে, রঘুদেবের স্তায় অমাত্য আছেন, তাহার আবার নিজের দেখিবার কি আছে ? তোমরা কি আমা হইতে ভিন্ন ? আমি মনে করি, তোমরাই আমার এক একটী অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ । আমার এক অঙ্গ আমি ভগবৎ-পাদপদ্মে অপণ করিয়াছি ; কিন্তু আমার অপরাপর অঙ্গ তো আমি রাজকাৰ্য্য-পর্য্যবেক্ষণের জন্য নিযুক্ত রাখিয়াছি।”