পাতা:লক্ষণ সেন - দুর্গাদাস লাহিড়ী.pdf/২৬০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


२¢७ লক্ষণ-সেন চাহি না। একবার ত্রিলোচনকে আমার সমক্ষে আনয়ন করুন।” বক্তিয়ারের মুখমণ্ডলে একটু স্পৰ্দ্ধার ভাব প্রকাশ পাইল । অল্পক্ষণ মধ্যেই ত্রিলোচনকে প্রকোষ্ঠে উপস্থিত করা হইল বক্তিয়ার, বলবন্ত সিংহ ও বিশ্বেশ্বর তিন জনেই ত্রিলোচনের যথেষ্ট সম্বৰ্দ্ধনা করিলেন। এতদিন পর্য্যন্ত ত্রিলোচনের মন যে সংশয়-দোলায় আন্দোলিত হইতেছিল, এখন তাহার সে সংশয় দূরীভূত হইল । ত্ৰিলোচন পরিচয় পাইয়াছিলেন,—স্বৰ্গ হইতে দেবসৈন্তগণ ইন্দ্রপ্রস্থে আগমন করিয়াছেন। কিন্তু এখানে সম্মুখে এ কি দেখিলেন । শাস্ত্রাদিতে দেবসেনাগণের যে বর্ণনার বিষয় তিনি শ্রবণ করিয়াছিলেন বক্তিয়ারে তাহার কোনই সাদৃত দেখিলেন না। বদনে কোমলতা নাই ; পরিচ্ছদে পারিপাটা নাই। মুখ শ্মশ্রগুক্ষসমন্বিত ; মুণ্ডিত-মস্তকে শিরস্ত্রাণ শোভমান। পরিধানে পায়জামা ; গাত্রে অঙ্গরাখা । কটিদেশে তরবারি দোদুল্যমান । ত্ৰিলোচনের মনে হইল,—“কি দেখিতে আসিয়াছিলাম ; আর এ কি দেখিলাম! দেবমূৰ্ত্তি দেখিব বলিয়া আশা করিয়াছিলাম। কিন্তু এই কি দেবমূৰ্ত্তি! ত্রিলোচনের মনে, কি জানি কেন, বক্তিয়ারকে দেখিয়া আতঙ্কের সঞ্চার হইল । ত্ৰিলোচনকে আপ্যায়ন করিয়া বক্তিয়ার কহিলেন,— “আপনি আমার প্রতি যে অনুগ্রহ প্রকাশ করিলেন, তাহাতে অামি আপনার নিকট চিরকৃতজ্ঞ রহিলাম।” ত্রিলোচন অৰ্দ্ধ-বিজড়িত কণ্ঠে উত্তর দিলেন,—“আমি ক্ষুদ্র ব্যক্তি ; আমি আপনার দয়ার ভিখারী।”