পাতা:লক্ষণ সেন - দুর্গাদাস লাহিড়ী.pdf/৩০৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


অনুতাপে । , ৩০ ৫ তাহাকে পথ দেখাইয়াও এ রাজ্যে আনিবার পাপ-প্রবৃত্তি থাকিত না। কৌতুহল-বশতঃ যদি বজরায়ই রহিলাম, বিধৰ্ম্ম বক্তিয়ার সাহের দরবারে কি জন্য উপস্থিত হইলাম ! যদি উপস্থিতই হইলাম, মূক হইয়৷ থাকিতে পারিলাম না কেন ? বক্তিয়ার অসি নিস্কোষিত করিয়াছিল ;– গৰ্দ্দাম লইত ! এ যন্ত্রণার অপেক্ষা সেও কি শ্রেয়ঃ ছিল না ? অামি আজি স্বদেশে প্রত্যাবৃত্ত হইয়াছি । কিন্তু স্বদেশের নিকট মুখ লুকাইয়া আছি । এ যন্ত্রণার অপেক্ষ আমার মরণই মঙ্গল ছিল না কি ? আমি পাপের পথে এক এক পদ অগ্রসর হইয়াছি ; আমার মন আমায় বাধা দিয়াছে। কিন্তু সে বাধা মানি নাই । কত বার বুঝিয়াছি,—বক্তিয়ার আমার সম্মুখে প্রতারণা-জাল বিস্তার করিয়াছে ! কতবার বুঝিয়াছি,—তাহার অর্থ-সম্পং-দানের প্রলোভন-ছলন মাত্র । কতবার বুঝিয়াছি,-সে আমায় প্রলুব্ধ করিয়া বঞ্চিত করিবে। কতবার বুঝিয়াছি,—সে আমায়কৌশলে নজর-বন্দী করিয়। রাখিয়াছে। সকলই বুঝিয়াছি, অথচ সাবধান হই নাই। প্রলুব্ধ চিত্ত আশা পরিত্যাগ করিতে পারে না। বক্তিয়ার যেদিন স্বর্ণমুদ্রারাশি প্রদান করিল ; বুঝিলামপ্রলোভন। কিন্তু মনে করিলাম,—“যদি পাই ’ এখনও আশা—বক্তিয়ারের সঙ্গে ফিরিয়া গেলে, সে স্বর্ণমুদ্রারাশি পুনঃপ্রাপ্ত হইব । হায় ভ্রান্তি ! এই ভ্রান্তিবশে এমন গুরুতর পাপ-কৰ্ম্মে লিপ্ত হইলাম! আমি এখনও মনে করিতেছি,— সুখ-শাস্তি লাভ করিব । ন},—আর না ;—আর প্রলোভনে মজিব না ! মহারাজ লক্ষ্মণ-সেন!—আপনি আমার প্রাণদণ্ড রহিত করিয়াছিলেন। তখন আমি মুক্তির জন্য ব্যাকুল ছিলাম।