পাতা:লক্ষণ সেন - দুর্গাদাস লাহিড়ী.pdf/৬১

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


পুরুষোত্তমে। ११ ডুবি ; তার পর তুমি পদ্মাবতীকে জগবন্ধুর পাদপদ্মে অৰ্পণ করিও।” হৃষীকেশ দিবানিশি পত্নীকে আগুলিয়া থাকেন। কেমন করিয়া পদ্মাবতীকে জগবন্ধুর পাদপদ্মে অৰ্পণ করিবেন, কেমন করিয়া পত্নীকে লইয়া দেশে প্রত্যাবৃত্ত হইবেন,–হৃষীকেশ ভাবিয়াই স্থির করিতে পারেন না । তিন রাত্রি পুরুষোত্তমে অবস্থান করিবার সঙ্কল্প। শেষ রাত্রে পদ্মাবতীকে জগবন্ধুর পাদপদ্মে সমর্পণ করিয়া তাহাদিগকে দেশে প্রত্যাবৃত্ত হইতে হইবে। দুই দিন দুই রাত্রি অতিবাহিত হইয়া গিয়াছে। আজ শেষ দিন । আজ শেষ রাত্রে পদ্মাবতীকে জগবন্ধুর চরণে প্রদান করিতে হইবে । রাত্রি অতিবাহিত হইলে, সঙ্কল্প ভঙ্গ হইবে । পতিপত্নীতে সারাদিন তর্কবিতর্ক চলিল। কঁদিতে পাইবেন ন;–পুনরায় ফিরিয়া চাহিতে পরিবেন না ;–হাসি হাসি মুখে পদ্মাবতীকে অর্পণ করিয়া যাইতে হইবে । মার প্রাণ !—কেমন করিয়া এ কঠোর পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হইবে । হৃষীকেশ অনেক সময় মনকে দৃঢ় করিবার চেষ্টা পান বটে ; মুখে সৰ্ব্বদাই দৃঢ়তার ভাব প্রকাশ করেন বটে ;–কিন্তু কাত্যয়নী যখন অতিমাত্র কাতর হইয়া পড়েন, তখন তাহারও দৃঢ়তা ভঙ্গ হইয়া যায় ;–পতিপত্নী দুই জনেরই বক্ষঃস্থল তখন অশ্রুজলে প্লবমান হয় । পিতামাতার প্রাণ যখন এইরূপ উদ্বেগপূর্ণ পদ্মাবতীর হৃদয়ও তখন উদ্বেগ-পরিশূন্য নহে। পিতামাতার ব্যাকুলত৷ দেখিলে, বাগিক তাহাদিগকে সাস্তুনা দিবার চেষ্টা পায় ; বলে—“মা! তুই ভাবিনে ; বাবা! তুমি ভেব না। জগবন্ধু