প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (অষ্টম সম্ভার).djvu/১০০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ ব্যঞ্জন তুলিয়া দিতে যে তাহার কত আনন্দ, কত তৃপ্তি তাহ সে নিজেই অনুধাবন করিয়া উঠিতে পারে না ; আনন্দে চোখের কোণে জল আসে, কিন্তু কে তাহা দেখিবে ? দেখিবার একজন ছিল, বুঝিবার একজন ছিল, কিন্তু সে পূৰ্ব্বেই গত হইয়াছে। শুধু ইহাই যদি হইত, তাহা হইলে শুভদা এই মুখেই সাংসারিক ' কাহিনী খতম্ করিয়া দিতে পারিত ; কিন্তু ছলনা দিন দিন বড় হইয়া উঠিতেছে, তাহার উপায় কি করিয়া হইবে ? যে মরিয়াছে, সে বঁাচিয়াছে, কিন্তু মাধবের মনে যে কি আছে, শুভদা সে তত্ত্ব কিছুতেই নিরূপণ করিয়া উঠিতে পারে না । আজকাল চিকিৎসার অনেক স্বযোগ হইয়াছে ; যথাসাধ্য চিকিৎসাও হইতেছে, কিন্তু ফল যে কিছু হইতেছে তাহা কিছুতেই বোধ হয় না। শুভদা একথা ভাবিয়া কপালে করাঘাত করে, ললনার কথা মনে করিয়া আকুলভাবে আপনা-আপনি রোদন করে, আর তাহার নিকট যাইবার কামনা করে ; আবার জল আনে, রন্ধন করে, সকলকে খাওয়ায় পরায়—এমনি করিয়া দিন অতিবাহিত করিয়া চলিতেছে । একদিন মধ্যাহ্নে আহার করিতে বসিয়া সদানন্দ শুভদার মুখের প্রতি চাহিয়া বলিল, ছলনা বড় হয়েচে । শুভদা মলিন-মুখে বলিল, ই । আর রাখা যায় না, ভালও দেখায় না । শুভদা বলিল, মা দুর্গাই জানেন । সদানন্দ একটু হাসিল ; বলিল, মা দুর্গ ত আর বিবাহ দিয়ে যাবেন না ! শুভদা মৌন হুইয়া রহিল। হরমোহনবাবুর ছেলে সারদার সঙ্গে বিবাহ দিলে হয় না ! শুভদা ভাল বুঝিতে পারিল না ; বলিল, সারদার সঙ্গে ? 数山 তা সম্ভব কি ? অসম্ভবই বা কিসে? কি জানি । ও-কথাটা শুভদা,সম্পূর্ণ হতাশ ভাবেই বলিল । পাগলা সদানন্দ তাহা বুঝিতে পারিয়া লুকাইয়া একটু হাসিয়া লইল ; তাহার পর বলিল, এ-বিষয় সারদার নিকট একদিন বলেছিলাম ; তার অমত নাই। শুভদার মুখে আগ্রহের চিহ্ন প্রকাশ পাইল, কিন্তু তখনই তাঁহা মিলাইয়া গেল ; বলিল, কিন্তু তার পিতা ? তার কি মত হবে ? না হবে কেন ?