প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (অষ্টম সম্ভার).djvu/১০১

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শুভদ কেন হুইবে না তাহা শুভদা বুঝিত, ছেলের ইচ্ছাসত্বেও কেন যে বাপের ইচ্ছা হইবে না তাহাও জানিত, কিন্তু খুলিয়া বলিতে পারিল না। তাহার একবার ইচ্ছা হইল জিজ্ঞাসা করে, কে তাহার পিতার মত করাইতে যাইবে ? কিন্তু তাহাও বলিল • না, শুধু মৌন-মুখে কাতর নয়নে তাহার মুখপানে চাহিয়া রহিল । পাগল সে মৌনভাষাও বুঝিল ; বলিল, তাহার পিতার মত আমাদেরই চেষ্টা করে করাতে হবে। কারণ বিবাহ ত দিতেই হবে । শুভদা ভয়ে ভয়ে, আশায় নিরাশায়, অস্ফুটে বলিল, হবে কি ? নিশ্চয় হবে । কেমন করে জানলে ? পাগল আবার একটু হাসিল ; বলিল, আমি তা জানি। আপনি ভাববেন না, এ মত আমি নিশ্চয় করাব । বৃদ্ধ হরমোহনের কিরূপে মত করাইতে হইবে সদানন্দ তাহা বিশেষ বিদিত ছিল, মত নিশ্চয় হইবে তাহাও জানিত । .* শুভদা কিন্তু আর থাকিতে পারিল না। ছুটিয়া ঘরের ভিতর হইতে দুধ আনিতে গেল ; কিন্তু দুধের বাটি হাতে লইয়া অসাবধানে তাহাতে বড় এক ফোটা চোখের জল মিশাইয়া ফেলিল। অপ্রতিভভাবে বাহিরে আসিয়া কহিল, সদানন্দ, ব’ল, ওঘর থেকে দুধটা বদলে নিয়ে আসি । ও-ঘরে আসিয়া, দুধের কড়ায় হাত রাখিয়া শুভদা আরো একটু কাদিয়া লইল, সাবধান হইয়া আরো দুই-চারিটা বড় বড় ফোট মৃত্তিকার উপরে ফেলিল, তাহার পর চক্ষু মুছিয়া দুগ্ধ ঢালিতে লাগিল। শুভদা কাদিল বটে, কিন্তু তাহ অন্তর্ভেদী রক্তবিন্দু নহে, বরং অসম্ভব আনন্দাশ্র ; ললনার শোকের এক ফোটা জল ; স্বামীর বেদনার একবিন্দু বারি । আহার সমাপন করিয়া সদানন্দ মাঠপানে চলিল। সেখানে তাহার ক্ষেত আছে, কুষাণ কাজ করে, গরু-বাছুর চরিয়া বেড়ায়—সেখানে সদানন্দ আলের উপর কিছুক্ষণ ঘুরিয়া বেড়াইল, একটা অশ্বথমূলে বসিয়া দুই-চারিট কালনাম করিল, দুই-চারি ছিলিম তামাক পোড়াইল, তাহার পর তথা হইতে উঠিয়া হরমোহনবাবুর বৈঠকখানায় আসিয়া উপস্থিত হইল । বৃদ্ধ হরমোহন তখন নিদ্রান্তে তাম্বুল চৰ্ব্বণ করিতেছিলেন, কলিকার তাওয়াটা তখনও তত উত্তপ্ত হয় নাই, একটু একটু খুম নির্গত হইতেছিল মাত্র। বৃদ্ধ সদানন্দকে দেখিয়া বলিয়া উঠিলেন, কি হে, অনেকদিন যে তোমাকে দেখি नाहे ?

  • }