প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (অষ্টম সম্ভার).djvu/১০৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শুভদ অর্গল নাই—বাটতে যে আসিতেছে, তাহাকেই কাদিয়া জানাইতেছে যে, এমন মুখের দিনেও ললনার জন্ত র্তাহার মনে একতিল স্থখ নাই—বোধ হয় অনেকেই তাহার সহিত এ ব্যথা বুঝিতেছে ; কেবল শুভদা আজ বড় প্রাস্ত, বড় ধীর । ক্রমে সন্ধ্যা হইল, অনেক বাদ্য বাজিল, অনেক লোক জমা হুইল—তাহার পর শুভক্ষণে শুভলগ্নে ছলনাময়ীর বিবাহ হইয়া গেল । আজ গ্রামময় কৃপণ হরমোহনের মুখ্যাতির একটা সাড়া পড়িয়া গিয়াছে ; শত্রুতেও মনে মনে স্বীকার করিল যে, ই, মনটা দরাজ বটে ! মুখের সম্মুখে কেহ তাহার গুণগান করিলে, নিতান্ত কুষ্ঠিতভাবে বৃদ্ধ হরমোহন বলেন, কি আর করি বল, একটি ছেলে বই দুটি নয়, তার ওখানে বিবাহ করতে हेझो–श्राधि আর তাতে অমত কেন করব? আর গ্রামের মধ্যে আমরাই ওদের পালটি ঘর-প্রতিবাসীকে একটু দেখতেও হয়। সারদাচরণ এ-কথা শুনিয়া অলক্ষ্যে ভ্র কুঞ্চিত করিল। Եր অনেক কাজ ছিল, অনেক কষ্টে তাহা সমাধা হইয়া গিয়াছে । এখন আরাম করিয়া নিঃশ্বাস ফেলিতে বেশ লাগে, কিন্তু দুই-চারিদিন পরে সে আরামটা তেমন করিয়া উপভোগ করিতে পারা যায় না । নিতান্ত আলস্যভাবে নিষ্কৰ্ম্মার মত বসিয়া থাকিতেও কেমন ব্যাজার বোধ হয় । ছলনাময়ীর বিবাহ দিয়া, লুকাইয়া লুকাইয়া হরমোহনকে বেশ দু’পয়সা ঘুম দিয়া হত্যাপরাধে ধৃত আসামীর খালাস পাওয়ার মত, বিছানায় পড়িয়া মনে মনে আনন্দে পাশ-বালিশ জড়াইয়া, এ-পাশ ও-পাশ করিয়া গড়াইয়া সদানন্দ দুই-চারিদিন নির্বিববাদে কাটাইয়া দিল, তাহার পর বোধ হইতে লাগিল যে শয্যাটা একটু গরম, বালিশগুলো একটু শক্ত হইয়াছে, ঘরটার ভিতর একটু অধিকমাত্রায় অন্ধকার ঢুকিয়াছে, সদানন্দ উঠিয়া বাহিরে আসিয়া দাড়াইল । তখন প্রায় সন্ধ্যা হইয়াছে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি সমস্তদিন ধরিয়া হইতেছিল, তাহা তখনও শেষ হয় নাই ; কালো কালে মেঘগুলো ছোটখাট বাতাসে দুই-চারি পা করিয়া মাঝে মাঝে সরিয়া দাড়াইতেছে বটে, কিন্তু জল বর্ধাইতে ছাড়িতেছে না—ছড়িবেও না, সদানন্দ অন্ততঃ এইরূপ মনে করিয়া লইল, তাহার পর মাথায় ছাতি দিয়া রাস্তায় বাহির হইয়া পড়িল । বহুক্ষণ এ-পথ ও-পথ করিয়া, কাপড় ভিজাইয়া, এক-পা কাদা লইয়া হারাণচন্দ্রের বাটীর ভিতর আসিয়া খাড়া হইল। শুভদা বোধহয় রন্ধনশালায় ছিল, সদানন্দ সেদিকে গেল না ; পিসিমাতা 岔