প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (অষ্টম সম্ভার).djvu/১১২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ সে কথা মনে পড়িল ; মাধবচন্দ্র মরিতেছে, একথাও স্বয়ণ হইল ; আর শুভদা— তাহার মনে হইল যে, ললনা মরিয়া তাহার যত দুখকষ্ট সমস্তই তাহার ঘাড়ে চাপাইয়া দিয়া গিয়াছে । মাধবচন্দ্রের মনেও সে রাত্রে খুব স্বথ ছিল না। মধ্য হইতে তাহার একটা দুর্ভাবনা আসিয়া জুটিয়াছে। এতদিন সে নিশ্চিম্ভ ছিল যে, সময় হইলে ললনা আসিয়া তাহাকে লইয়া যাইবে, কিন্তু সদাদাদা একটু অন্যরূপ বলিয়াছে, তাহার শরীরে আর একটুও সামর্গা নাই, সে-স্থলে কেমন করিয়া সে অতদূর যাইতে পারিবে ? ভাবিয়া ভাবিয়া অনেক রাত্রে সে নিশ্চয় করিল যে, তাহার দিদি কখন মিথ্যা বলিবে না—যথাসময়ে নিশ্চয় আসিবে । মাধবচন্দ্র তখন অনেকটা শাস্তমনে নিদ্রা গেল । - > আরো কতদিন কাটিয়া গেল। ছলনা বাপের বাটী ফিরিয়া আসিল, পাড়ার মেয়েরা আর একবার নতুন করিয়া কন্যা-জামাতা দেখিয়া গেলেন, কত হাসি কত তামাসা গড়াইয়া গেল, হরমোহন নিজে এখানে আসিয়া সকলকে মধুর সম্বোধনে আপ্যায়িত করিয়া বেয়ান-ঠাকুরাণীর নমস্কার গ্রহণ করিয়া ফিরিয়া গেলেন, হারাণচন্দ্র কোমরে ফর্স চাদর বাধিয়া বামুলপাড়ার প্রত্যেক দোকানে একবার করিয়া বসিয়া তাহাদিগকে মোহিত করিলেন—এইরূপ অনেক ঘটনা ঘটিয়া গেল । আজ মাধবচন্দ্রের পীড়া বড় বৃদ্ধি পাইয়াছে । শয্যার উপর ছট্‌ফট্‌ করিতেছে এবং পার্থে, শিয়রে, পদতলে পিসিমাতা, কৃষ্ণঠাকুরাণী, ছলনা প্রভৃতি বসিয়া আছে । শুভদা এগানে নাই—সে রন্ধনশালায় বসিয়া কতক রাধিতেছে, কতক কাদিতেছে, সদানন্দ ডাক্তার ডাকিতে গিয়াছে, আর হারাণচন্দ্র এই আসিতেছি বলিয়া ঘণ্টাতিন হইল বাহির হইয়াছেন, এখনও আসিয়া পৌছিতে পারেন নাই। সকলে মুখোমুখি হইয়া বসিয়া আছেন ; কৃষ্ণঠাকুরাণ মাধবের গায়ে হাত বুলাইয়া দিতেছেন এবং ডাক্তারের অপেক্ষায় মনে মনে সময় গুনিতেছেন । ক্রমে সন্ধ্যার একটু পরে ডাক্তার আসিয়া পৌঁছিলেন, তিনি আজ ছয়-সাত দিবস হইতে নিত্য আসিতেছেন, নিত্য দেখিতেছেন, পীড়া কিছুতেই কমিতেছে না বরং বাড়িতেছে তাহ জানিতেন, বঁrচিবে না তাহাও বুঝিয়াছিলেন। আসিবার ইচ্ছাও ছিল না, কিন্তু সদানন্দের পীড়াপীড়িতে আসিতে বাধ্য হইয়াছিলেন। ঘরে আসিয়া ডাক্তারে যাহা দেখে তাহা তিনি দেখিলেন, তাহার পর বাহিরে ॐ ● ३