প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (অষ্টম সম্ভার).djvu/১১৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শুভদ দুর্তাগিনী আমি এক বৎসরের মধ্যেই বিধবা হলাম—যার সহিত বিবাহ হ’ল তাকে বোধ হয় একবারের অধিক দেখতেও পাই নাই । আমি বাপের বাটীতে ছিলাম, সেই অবধি পাঁচ বৎসর প্রায় সেইখানেই থাকলাম। পিতা আমাদের গ্রাম হলুদপুর হতে প্রায় অৰ্দ্ধ ক্রোশ দূরে এক জমিদারের নিকটে কৰ্ম্ম করতেন। সামান্তই বেতন পেতেন, কিন্তু তাতেই আমাদের একরূপ দুঃখ-কষ্টে চলে যেত। এইসময় তাহার কণ্ঠ রুদ্ধ হইয়া আসিল । স্বরেন্দ্রনাথ বলিলেন, তোমাদের বাড়িতে তখন কে কে ছিলেন ? সবাই ছিলেন-বাবা, মা, পিসিম, আমরা দুই বোন, আর একটি ছোট ভাই । তার পর চুরির অপরাধে বাবার চাকুরি যায়—সেই অবধি নিত্য ভিক্ষা করে কোনদিন আমাদের আহার হ’ত, কোনদিন হ’ত না । মা সতীলক্ষ্মী ছিলেন- চেয়ে-চিন্তে যা মিলত তাতে অপরাপর সকলকে খাইয়ে মা প্রায় নিত্য উপবাসী থাকতেন ; এমন একসঙ্গে তিনদিনও—এই সময় মালতী ফু পাইয়া কাদিয়া উঠিল। কিছুক্ষণ পরে আপনাকে কিঞ্চিৎ সামলাইয়া লইয়া বলিল, বাবা কিন্তু এসব দিকে ফিরেও চাইতেন না । গাজী গুলি খেতেন, যেখানে সেখানে পড়ে থাকতেন—হয়ত বা চার-পাচদিন ধরে বাড়িতেই আসতেন না । আমাদের ছোটভাই মাধব প্রায় একবৎসর হতে পীড়ায় ভূগছিল, চিকিৎসা ভিন্ন কিছুতেই আরোগ্য হতে পারছিল না, বোধ হয় এতদিনে সে আর বেঁচেও নেই— এ-সময়ে স্বরেন্দ্রনাথের চক্ষু জলে ভরিয়া গেল । তাহার পর মালতী কৃষ্ণঠাকুরাণীর কথা বলিল, সদানন্দর কথা বলিল, শেষে বলিল ছলনার কথা । মালতী কহিল, ছলনার বিবাহের বয়স হ’ল, কিন্তু দরিদ্র বলে কেউ বিবাহ করতে চাইল না । বিবাহ না হলে, ব্রাহ্মণের ঘরে জাত যায়— আমাদের জাত যায় যায় হ’ল ; মা আমার আহার-নিদ্রা পরিত্যাগ করিলেন। পিতা ফিরেও চাইতেন না, শুধু ভরসা ছিল সদানন্দ, কিন্তু তিনিও তখন দেশে ছিলেন না—কাশীতে তার পিসিমাতাকে নিয়ে গিয়েছিলেন । পিতার চাকুরি যাবার পর হইতে ক্রমে ক্রমে এরূপে ছ'মাস কেটে গেল। পাড়া-প্রতিবেশীতে আর কত সাহায্য করবে ? সদাদাদা কাশী যাবার সময় যে পঞ্চাশ টাকা দিয়ে গিয়েছিলেন তাও ফুরিয়ে গেল—এ-সময়ের কথা আর বলতে পারি না-মালতী আবার কাদিতে লাগিল, স্বরেন্দ্রনাথও কাদিলেন ; কিছুক্ষণ পরে চক্ষু মুছিয়া বলিলেন, আর কাজ নাই—অন্তদিন বলে । মালতী চক্ষু মুছিয়া বলিল, আজই বলি। লোকে আমাকে সুন্দরী বলত, আমি ভাবতাম কলকাতায় গিয়ে উপার্জন করব। একদিন রাত্রে গঙ্গার তীরে এলাম, মনে করলাম তীরে তীরে কলকাতায় যাব—তা হলে বড় কেউ দেখতে পাবে না, తిఫె