প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (অষ্টম সম্ভার).djvu/১২০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ কাকেও পথও জিজ্ঞাসা করতে হবে না। ঘাটে এসে দেখলাম অদূরে একটা প্রকাণ্ড নৌকা পাল ভরে যাচ্ছে, আমি সাতার জানতাম, নৌকা দেখে ভাবলাম নিঃশব্দে সীতার দিয়ে নৌকার হাল ধরে থাকব। শুনেছিলাম আমাদের দেশ হতে কলকাতা অধিক দূর নয়—তবে ঠিক জানতাম না যে কতদূর । ভাবলাম রাত্রিশেষে নৌকা নিশ্চয় কলকাতায় পৌঁছবে, আমিও তখন নেমে যাব। জলে পড়লাম, সাতার দিয়ে কিছুদূর এলাম - এই সময়ে কাপড়খানা হাতে পায়ে সৰ্ব্বাঙ্গে জড়িয়ে গেল, আমিও প্রায় ডুববার মত হলাম, কিন্তু বহু ক্লেশে অবশেষে সেখানা খুলে ফেললাম, কিন্তু হাত হতে সেটা পিছলিয়ে কোথায় সরে গেল, এইসময় নৌকাখানাও কাছে এসে পড়ল ; আমার হাত-পাও ধরে গিয়েছিল—ভাবলাম আর ফিরে যেতে পারব না—তাই হালটা ধরে ফেললাম। নৌকা চলতে লাগল, আমিও সাহস করে তা ছাড়তে পারলাম না, ভয় হ’ল, তা হলেই ডুবে যাব। এইরূপে বহুদূর চলে এলাম। তখন আর ফিরে যাবারও উপায় ছিল না । অবশেষে স্থির করলাম, প্রাতঃকালে গঙ্গাস্নান করতে অনেক স্ত্রীলোকেই এসে থাকে, তাদের নিকট বস্ত্রও থাকে—ভিক্ষা করে একটা চেয়ে নেব—-বিবস্ত্রা দেখলে স্ত্রীলোকের দয়া হবেই। তার পর সব তুমি জান। স্বরেন্দ্রনাথ অনেকক্ষণ চুপ করিয়া বসিয়া রহিলেন, তাহার পর ধীরে ধীরে তাহাকে নিজের কাছে টানিয়া লইয়া বলিলেন, যেজন্য এত করলে এতদিনে তার কোন উপায় করেচ কি ? মালতী মাথা নাড়িয়া বলিল, না । তা জানি। আর তাই ভাবচি, যে মুখ ফুটে একটা কথা বলতে পারে না সে কোন সাহসে এতটা করেচে। মালতী চুপ করিয়া শুনিতে লাগিল। মাসে মাসে কত টাকা হলে তাদের চলে ? কুড়ি টাকা । প্রতি মাসে সেখানে পঞ্চাশ টাকা করে পাঠিয়ে দিও। তুমি দেবে ? স্বরেন্দ্রনাথ হাসিলেন ; বলিলেন, দেবো ; আরো চাও আরো দেবো। মালতী মনে মনে কহিল—এতদিনে তার জন্ম সার্থক হইল। তার পরে আর একটা কাজ ক'রো—আমাকে বিবাহ ক’রো—কেননা নরাধম হ’লেও অত শুভ্ৰ হৃদয়ে আমি কলঙ্কের ছাপ লাগাতে দেব না। মালতী তাহার বুকের ভিতর মাথা নাড়িয়া অস্ফুট কহিল, না— কেন—না ? তুমি ভাবচ আমার জাত যাবে ; কিন্তু আমি এস্থানের জমিদার, আমার অনেক টাকা--যার টাকা আছে তার জাত শীঘ্ৰ যায় না ।

e