প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (অষ্টম সম্ভার).djvu/১২৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শুভদ করেন । আচ্ছা তাই হবে 8 ર জয়াবতী মরিয়াছে, কিন্তু তাহার মা বাচিয়া আছে। নারায়ণপুরের কিছু উত্তরে বাসপুর গ্রামে জয়াবতীদের বাটী। সেখানে জয় ও তাহার জননী থাকিত । কেমন করিয়া যে তাহাদিগের গ্রাসাচ্ছাদন চলিত তাহা তাহারাই জানিত । আর শুনিতে পাই গ্রামের দুই-চারিজন মন্দ লোকও তাহ জানে, কিন্তু আমাদিগের তাহ জানিয়া কোন লাভ নাই, শুনিতে বাসনা ও নাই । যাক সে কথা । এইরূপে কিছু দিবস অতিবাহিত হইল, তাহার পর জানি না কি উপায়ে জয়াবতী নারায়ণপুরের জমিদারবাবুর নিজ ভবনের একাংশে স্থান পাইল । যখন সে পাইল, তখন তাহার মাতাও আসিল ; তখন দুইজনে ঘরকন্না পাতাইয়া দিল ; কিন্তু জয়ার মার অদৃষ্ট ভাল ছিল না, তাই মাস-পাঁচেক যাইতে না যাইতেই মাতা-কস্তার কলহ হইতে লাগিল। কিছু দিন পরে এমন হইল যে, দু’জনে দু’সন্ধ্যা রীতিমত চীৎকার করিয়া উভয়ে উভয়ের মঙ্গল-কামনা এবং আশু সংসার-বন্ধন মুক্ত হইবার বিশেষ প্রার্থনা না করিয়া জলগ্ৰহণ করিত না । এরূপেও দিন কাটিতে লাগিল, আরো ছয় মাস কাটিল । তাহার পর জয়ার মা প্রাসাদ-বাস-লালসা পরিত্যাগ করিয়া তাহার পরিত্যক্ত পুরাতন ভবনে চলিয়া গেল। বোধ হয় তাহাকে সেখানে যাইতে নিতান্ত বাধ্য করা হইয়াছিল, কেননা যাইবার কালীন সে যেরূপ নিৰ্ম্মমভাবে বুক চাপড়াইতে চাপড়াইতে এবং কন্য ও তাহার বাবুর কল্যাণ ভিক্ষা করিতে করিতে গিয়াছিল তাহ দেখিলে কিছুতেই বোধ হয় না যে, ইচ্ছামুখে সে এ আবাস পরিত্যাগ করিয়া যাইতেছে । সেই অবধি স্বরেন্দ্রবাবুর নিষেধ ছিল যে, সে মাগী কিছুতেই আর এ-বাড়ি না ঢুকিতে পায় । কিন্তু ফল কিছুই হইত না । সে মাগী আবার আসিত, আবার প্রবেশ করিত। বহুবিধ গালি-গালাজ, শাপশাপান্ত, অশ্রুপাত, বুকে দারুণ চপেটাঘাত, মস্তকের কেশোৎপাটন এবং পরিশেষে ভূতাহস্তের "অৰ্দ্ধচন্দ্র, এই লইয়া জয়ার মাকে বাসপুরে ফিরিয়া যাইতে হইত। প্রতি দুইমাস একমাস ব্যবধানে ইহা নিশ্চয় ঘটিত । বোধ হয় ইহাতে ভিতরে ভিতরে তাহার কিছু লাত ছিল, ন হইলে শুধু এইগুলির জন্যই সে এত পরিশ্রম করিয়া এতদুরে জাসিত না ; সে যেরূপ চরিত্রের লোক ছিল তাহাতে এগুলি আর কোথায় অনেক কম ক্লেশ উপার্জন করিয়া লইতে পারিত । যাক এ-কথা, এমনও হইতে পারে যে, সে কন্যারত্বকে অতিশয় স্নেহ কল্পিত, এইজন্য বিপথগামিনী হইলেও মায়া 3 * *