প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (অষ্টম সম্ভার).djvu/১৩৬

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ আমার কাছে আসবে। যার কাছে ইচ্ছা আমুক, কিন্তু এপন তুমি মামার কাছে এস। কাছে আসিলে হাত দুটি ধরিয়া বলিলেন, মালতী, আর কতদিন এমন করে কাটাবে ? এমনধারা বেশ চোখে আর দেখা যায় না । মালতী মুখ টিপিয়া হাসিয়া বলিল, গয়না পরলে কি রূপ বাড়বে? তোমার রূপের সীমা নাই—যার সীমা নাই তাকে বাড়ানো যায় না, কিন্তু আমার তৃপ্তির জন্তে ও অন্ততঃ– গয়না পরতে হলে ? ई! ! পরতে পারি, কিন্তু আগে বল আমাকে গয়না পরাতে তোমার জেদ কেন ? যদি বলি, তা হলে মনে দুঃখ পাবে না ? কিছু না । তবে বলি শোন ; তোমার এ নিরাভরণ মূৰ্ত্তি বড় জ্যোতিৰ্ম্ময়—ম্পর্শ করতেও সময়ে সময়ে কি কেন একটা সঙ্কোচ এসে পড়ে—দেখলেই মনে হয় যেন আমার পাপগুলা ঠিক তোমারি মত উজ্জল হয়ে ফুটে উঠছে । তোমাকে বলতে কি—তোমার কাছে বসে থাকি, কিন্তু কি একটা অজ্ঞাত ভয় আমাকে কিছুতেই ছেড়ে যাচ্ছে না বলে মনে হয় । আমি েমন মুখ পাই না—তেমন মিশতে পারি না ; তাই তোমাকে অলঙ্কার পরিয়ে একটু স্নান করে নেব । , মালতী নিঃশব্দে আপনার সর্বাঙ্গ নিরীক্ষণ করিল, প্রকাণ্ড দর্পণে তাহ পূর্ণ প্রতিফলিত হইয়াছে তাহাও দেখিল । মনে হইল সে বুঝি যথার্থই বড় উজ্জল, বড় জ্যোতিৰ্ম্ময়ী ; মনে হইল পুণ্যের অতীত স্মৃতি এখনও বুঝি সে দেহ ছাড়িয়া যায় নাই, পবিত্রতার ছায়াখান এখনও সে-দেহে বুঝি ঈষৎ লাগিয়া আছে। রাত্রে সহসা নিস্তব্ধ কক্ষে মালতীর ঈষৎ ভ্রম জন্মিল-সে দেখিল, সম্মুখে মুকুরে এক কলঙ্কিত দেবীমূৰ্ত্তি আর পার্থে জীবনের আরাধ্য স্বরেন্দ্রনাথের অকলঙ্ক দেবমূর্কি ! ৰিম্বয়ে আনন্দে মালতী চক্ষু মুদ্রিত করিল। পরদিন ঠিক সন্ধ্যার পর স্বরেন্দ্রনাথ মোহন নটবর-বেশে মালতীর মন্দিরে দেখা দিলেন। গলায় মোটা মোটা ফুলের গোড়ে ; জুই, বেলা, বকুল, কামিনী প্রভৃতি পুষ্পের একরাশি মালা কণ্ঠ ও বুক ভরিয়া আছে, একহস্তে-ফুলের তোড়া, অপর হস্তে মখমল-মণ্ডিত স্বন্দর স্বগঠন একটা বাক্স ; পরিধানে পট্টবস্ত্র, পায়ে জরির জুতা ; እ:ቁo