প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (অষ্টম সম্ভার).djvu/১৩৮

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ এখন বাড়ি যাবে ? মালতী বলিল, কোথায় ? যেখানে তোমার বাড়ি—যেখানে আমি থাকি । এটা কি আমার বাড়ি নয় ? তবে কি সেখানে যাবে না ? न ! আমিও ঠিক তাই ভেবেছিলাম । 38 দুঃখের দিন দেরি করিয়া কাটে সত্য, কিন্তু তথাপি কাটে, বসিয়া থাকে না । মাধবের মৃত্যুর পর শুভদার দিনও তেমনি করিয়া অনেকদিন কাটিয়া গিয়াছে। তখন বর্ষ ছিল, আকাশে মেঘ ছিল, পথে ঘাটে কাদা-পাক পিছল ছিল - এখন তাহার পরিবর্তে শরৎকাল পড়িয়াছে। সে মেঘ নাই, সে কাদা-পাক পিছল নাই—পথ-ঘাট খটখট করিতেছে। কখন দুই একখণ্ড মেঘ উদ্দেশ্যহীন ভাবে আকাশ বহিয়া কোথাও চলিয়। যাইতেছে। তখন প্রকৃতির নিত্য মান মুখ, নিত্য চোখে অশ্র ছিল—এখন সে-সব আর নাই। কখন কখন সে-মুখ ঈষৎ মলিন হয়, দুইএকফোটা চোখে জলও অাসে দেখিতে পাই, কিন্তু ক্ষণিকের জন্ত । তৎক্ষণাং মুছিয়া ফেলিয়া আবার হাসে। অতীতের স্মৃতি-জড়িত দুখের শেষ ক্ৰন্দনটুকুর মত গগনের কোন অনদ্দেশ্য কোণ হইতে "গুড় গুড়' করিয়া কখনো কখনো কাদিয়া উঠে বটে, কিন্তু তাহাতে আর গভীরতা নাই। একঘেয়ে জীবন আর ভাল লাগে না, একথা প্রকৃতি সতীও যেন কতক বুঝিয়াছে। পরিবর্তন ভিন্ন সংসার চলে না। একথা সকলেই বুঝেন-বুঝে না কেবল শুভদার স্বষ্টিকৰ্ত্তা! জন্সিয়া অবধি আজ পৰ্য্যন্ত ! শুভদা এ কথা মনে করিয়া দেখে - আর দেখে শ্ৰীসদানন্দ চক্রবর্তী। পাড়ার পাঁচজন দেখে — শুভদা ঘাট হইতে স্নান করিয়া যাইতেছে, জলের কলসী কাকে লইয়া ধীর মন্থর-গমনে চলিয়া যাইতেছে, গৃহকৰ্ম্ম করিতেছে—কিন্তু নিত্য ক্ষীণ, নিত্য বিষাদময়ী ; বৰ্ষীয়সীরা বলে, ছুড়ী আর বঁচিবে না—আহা! সমবয়সিনীরা বলে, এমন অদৃষ্ট যেন শক্রয়ও না হয়—আহ ! পিছনে ‘আহ আহা সবাই বলে, কিন্তু সম্মুখে একথা বলিতে তাহাদের লজ্জা বোধ হয় । সকলেই যেন বুঝিতে পারে, এ 'মাহ'টা শুভদার সম্বন্ধে খাটে না। >aケ