প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (অষ্টম সম্ভার).djvu/১৬

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ র্তাহার স্বচ্ছন্দে চলত, এখন কিন্তু আর তাহাতে কুলায় না—সৰ্ব্বদা অনটন, সৰ্ব্বদা অভাব । বাটতে র্তাহার পোস্থ্যবৰ্গও অনেকগুলি ; স্ত্রী, দুইটি পুত্র, দুইটি কন্যা, এক বিধবা বড় ভগিনী অর্থাৎ বাঙ্গালীর ঘরে সচরাচর যাহা থাকে তাহারও ছিল। যখন তিনি মাসে কুড়িটি মুদ্র স্ত্রীর হাতে দিতেন, তখন তাহার সংসারে আজ-কালকার মত নিত্য দৈন্ত নিত্য অভাব কেই টের পায় নাই। স্ত্রী এবং বড়ভগিনী উভয়ে মিলিয়া সুশৃঙ্খলায় সংসার চালাইয়া যাইতেন, এখন তাহা করেনও না, সংসারের নিত্য অনটনও কিছুতেই ঘুচে না! আজ চাউল নাই, আজ ডাইল নাই, আজ কাষ্ঠ অভাবে বৃন্ধন হইতেছে না, নিত্য এ নাই, ও নাই, তা নাই-এ পড়িয়া মুখুয্যে মহাশয় অসৎ উপায় উদ্ভাবন করিলেন অর্থাৎ সরকারি তহবিলের কিছু অংশ আপনার ব্যয়ে গ্রহণ করিতে লাগিলেন । বিশ্বাসী হারাণবাবুকে প্রথমে কেহ সন্দেহ পৰ্য্যন্ত করিল না, কিন্তু এ উপায় অধিক দিন চলে না ; ক্রমশঃ জমিদারের সন্দেহ হইতে লাগিল ; সন্দেহ যখন গাঢ়তর হইয়া উঠিল তখন তিনি একদিন সমস্ত খাতাপত্ৰ দেখিতে চাহিলেন ; খাতায় অনেক ভুল, অনেক গোলমাল প্রকাশ পাইল ও সঙ্গে সঙ্গে চুরিও ধরা পড়িল । হারাণবাৰু এযাবৎ বহু অর্থ আত্মসাৎ করিয়াছিলেন ; জমিদার শ্ৰীভগবান নন্দ দয়ালু, এবং ধৰ্ম্মনিষ্ঠ ব্যক্তি ছিলেন। তিনি হারাণবাবুকে ডাকিয়া বলিলেন, কত টাকা চুরি করেছ ? তা জানি না । জান না ? খাতাপত্র দেখে বোধ হয় তিন হাজারের উপরও চুরি করেছ—এত টাকা কি করলে ? খরচ করেছি । খরচ ত করেছ, কিন্তু চুরি করলে কেন ? কুড়ি টাকায় আমার চলে না, কাজেই চুরি করতে হয় । কুড়ি টাকায় তোমার এতদিন চলেছে, এখন না চলবার কোন কারণ আমি বুঝে উঠতে পারি না ; যা হোক, তাই বা আমাকে বল নাই কেন যে, তোমার কুড়ি টাকায় সংসার চলে না । বললে কি আমাকে বেশি টাকা দিতেন ? হয়ত দিতাম, কিন্তু সে-কথা যাক ; যা নিয়েছ তার অৰ্দ্ধেক আমাকে ফিরিয়ে দিলে তোমাকে ছেড়ে দিতে পারি। কেমন করে দেব, আমার কিছুই নেই। তোমার কোন জমিজিরাত থাকে ত বিক্রয় করে দাও । জমিজিরাতের মধ্যে আমার একমাত্র ভদ্রাসন আছে, তাই বিক্রি করে নিন । \e