প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (অষ্টম সম্ভার).djvu/১৬১

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


$. সেদিন কুর ভগিনীর কাছে বৃন্দাবনের সাংসারিক পরিচয় দিবার সময় অত্যুক্তি স্বাত্র করে নাই। সত্যই তাহাদের গৃহে লক্ষ্মী উথলাইয়া পড়িতেছিল, অথচ সেজন্য কাহারও অহঙ্কার অভিমান কিছুই ছিল না। এ গ্রামে বিদ্যালয় ছিল না। বৃন্দাবন ছেলেবেলায় নিজের চেষ্টায় বাঙলা লেখাপড়া শেখে এবং তখন হইতেই একটা পাঠশালা খুলিবার সঙ্কল্প করে। কিন্তু তাহার পিতা গেীরদাস পাকা লোক ছিলেন ; বৃন্দাবন একমাত্র সন্তান হইলেও, এইসৰ অনাস্থঃ কাৰ্য্যে পুত্রকে প্রশ্রয় দেন নাই । তাহার মৃত্যুর পর, সে নিজেদের চণ্ডীমণ্ডপে বিনা-বেতনের একটা পাঠশালা খুলিয়া সঙ্কল্প কার্য্যে পরিণত করে । পাড়ায় একজন অবসরপ্রাপ্ত প্রাচীন শিক্ষক ছিলেন । ইহাকে সে নিজের ইংরেজী শিক্ষার জন্ত নিযুক্ত করে। তিনি রাত্রে পড়াইয়া যাইতেন ; তাই কথাটা গোপনেই ছিল । গ্রামে কেহই জানিতে পারে নাই—“বেন্দী বোষ্টম’ ইংরাজী শিখিয়াছিল। বছর-পাঁচেক পূৰ্ব্বে, স্ত্রী-বিয়োগের পর, সে এই লেখাপড়া লইয়াই থাকিত । প্রায় সমস্ত রাত্রি পড়িত, সকালে গৃহকর্ণ, বিষয়-আশয় দেখিত ; এবং দুপুরবেলা স্ব-প্রতিষ্ঠিত পাঠশালে কৃষক-পুত্রদিগের অধ্যাপনা করিত। বিধবা জননী তাহাকে পুনরায় বিবাহের জন্য পীড়াপীড়ি করিলে সে তাহার শিশুপুত্রটিকে দেখাইয় বলিত, যেজন্য বিয়ে করা তা আমাদের আছে, আর আবষ্ঠক নেই মা । মা কান্নাকাটি করিতেন, কিন্তু সে শুনিত না। এমনই করিয়া বছর-জুই কাটিল । তারপর, হঠাৎ একদিন সে কুঞ্জ বোষ্টমের বাড়ির স্বমুখেই কুমমকে দেখিল । কুস্কম নদী হইতে স্নান করিয়া কলস-কক্ষে ঘরে ফিরিতেছিল, সে তখন সবেমাত্র যৌবনে পা দিয়াছে। বৃন্দাবন মুখনেত্ৰে চাহিয়া রহিল ; কুঙ্কম গৃহে প্রবেশ করিলে সে ধীরে ধীরে চলিয়া গেল। এ-গ্রামের সব বাড়িই সে চিনিত ; সুতরাং এই কিশোরী যে কে, তাহাও সে চিনিল । এক সন্তান হইলে মাতাপুত্রে যে সম্বন্ধ হয়, বৃন্দাবন ও জননীর মধ্যে সেই সম্বন্ধ ছিল । সে ঘরে ফিরিয়া মায়ের কাছে কুস্কমের কথা অবাধে প্রকাশ করিল। মা বলিলেন, সে কি হয় বাবা ? তাদের যে দোষ আছে ! বৃন্দাবন জবাব দিল, তা হউক মা, তবু সে তোমার বে। যখন বিয়ে দিয়েছিলে, তখন সে-কথা ভাবনি কেন ? মা বলিলেন, সে-সব কথা তোমার বাবা জানতেন । তিনি যা ভাল বুঝেছিলেন —করে গেছেন । Yoo