প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (অষ্টম সম্ভার).djvu/১৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শুভদ তোমার স্ত্রী-পুত্র থাকবে কোথায় ? গাছতলায় । ভগবানবাবু অনেকক্ষণ ধরিয়া হারাণ মুখুয্যের মুখপানে চাহিয়া বহিলেন। তাহার পর বলিলেন, তোমার চোখ অত রাঙা কেন ? কেমন করে জানব ? তখন হারাণ মুখুয্যেকে বিদায় দিয়া অন্য একজন আমলাকে ডাকিয়া বলিলেন, হারাণ মুখুয্যের বাটীর সংবাদ নিতে পার ? কি সংবাদ নিব ? এইরকম যে, ওদের সাংসারিক অবস্থা কেমন, কেমন সম্পতি আছে, কোনরূপ দেনাকর্জ আছে কি না—এই সব । এই লোকটি হারাণবাবুর অনেক কথা জানিত। সে বলিল, হামি যতদূর জানি মুখুয্যেমশায়ের সংসারের অবস্থা ভাল নয়, সম্পত্তিও বোধ হয় ছুই নাই—তবে দেনাকর্জ আছে কিনা বলতে পারি না । * * ভাল করে সংবাদ নিয়ে আমাকে জানিও ! - দুইদিন পরে সে বাবুকে জানাইল যে, সাংসারিক অবস্থা যতদূর মন্দ হওয়া সম্ভব মুখুয্যে মশায়ের তাহা হইয়াছে, অন্যান্য সংবাদ পূৰ্ব্বে যাহা বিদিত করিয়াছিল সমস্তই সত্য । ای ভগবানবাবু জিজ্ঞাসা করিলেন, মুখুয্যে কোনরূপ নেশাটেশা করে কি ? আঞ্জে হা, গাজা খান । - z তাই সেদিন চোখ অত রক্তবর্ণ দেখেছিলাম, আনুষঙ্গিক আর কোন দোষ আছে কি ? আমলা নতমুখে বলিল, শুনতে পাই আছে । তবে এক কাজ কর—কাল কোর্টে গিয়ে চুরির অপরাধে মুখুয্যের নামে নালিশ কয়ে দিও—পুলিশকেও সংবাদ পাঠিয়ে দাও । পরিশেষে ফল এই দাড়াইল যে, মুখুয্যেমহাশয়কে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হইয়া হাজতে যাইতে হইল । নিকট হইলেও হলুদপুরে এ-কথা প্রায় কেহই জানিতে পারিল না, তবে বিন্দুর পিতা ভবতারণ গাঙ্গুলী এ-কথা জানিলেন। বোধ হয় নদীরাই তাঁহাকে এ-ঘটনা জানাইয়াছিল। তিনি সন্ত্রান্ত ও বর্ধিষ্ণু লোক, ইচ্ছা করিলে হারাণ মুখুয্যেকে অনায়াসে হাজত-মুক্ত করিতে পারিতেন, কিন্তু কিছুই করিলেন না । সহায়-সম্বলহীন মুখুয্যেমহাশয় হাজত-গৃহেই পচিতে লাগিলেন। আর এক কথা-কলহপ্রিয়া কৃষ্ণঠাকুরাণী এ ঘটনা যে কেমন করিয়া শুনিয়াছিল, তাহ শুধু তিনিই বলিতে পারেন।