প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (অষ্টম সম্ভার).djvu/১৭২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ মা এবার হাসিলেন, বলিলেন, তা বেশ ত বাবা, এ তোমারই বাড়ি, কি খাৰে বল ? কুঞ্জ কহিল, আচ্ছা, সে আর একদিন হবে—তোমার কি হারিয়েচে আগে বল ? বৃন্দাবনের মা চিন্তিত হইলেন। একটু থামিয়া সন্দিগ্ধস্বরে বলিলেন, কৈ, কিছুই ত হারায়নি ! কথা শুনিয়া কুঞ্জ হো-হো করিয়া উচ্চৈঃস্বরে হাসিয়া উঠিল, পরে নিজের চাদরের মধ্যে হাত দিয়া একজোড়া সোনার বালা মেলিয়া ধরিয়া বলিল, তা হলে এটা তোমাদের নয় বল ? বলিয়া মহা আহলাদে নিজের মনেই হাসিতে লাগিল । এ সেই বালা, যাহা কাল এমনই সময়ে পরমক্ষেহে স্বহস্তে তিনি পুত্রবধুর হাতে পরাইয়া দিয়া আশীৰ্ব্বাদ করিয়াছিলেন । আজ সেই অলঙ্কার, সেই আশীৰ্ব্বাদ সে নিৰ্ব্বোধ কুঙ্কর হাতে ফিরাইয়া দিয়াছে। বৃন্দাবন একমুহূৰ্ত্ত সেদিকে চাহিয়া, মায়ের দিকে চোখ ফিরাইয়া ভীত হইয়া উঠিল। মুখে একফোট রক্তের চিহ্ন পৰ্য্যস্ত নাই। অপরাহের মান আলোকে তাহ শবের মুখের মত পাণ্ডুর দেখাইল । বৃন্দাবনের নিজের বুকের মধ্যে যে কি করিয়া উঠিয়াছিল, সে শুধু অন্তর্ষামী জানিলেন, কিন্তু নিজেকে সে প্রবল চেষ্টায় চক্ষের নিমেষে সামলাইয়া লইয়া মায়ের কাছে সরিয়া আসিয়া সহজ ও শাস্তভাবে বলিল, মা, আমার বড় ভাগ্য যে, ভগবান আমাদের জিনিস আমাদেরই ফিরিয়ে দিলেন । এ তোমার হাঙের বালা, সাধ্য কি মা যে-সে পরে ? কুপ্ৰদা, চল আমরা বাইরে গিয়ে বসি গে। বলিয়া কুঞ্জর একটা হাত ধরিয়া জোর করিয়া টানিয়া লইয়া বাহিরে চলিয়া গেল । কুঞ্জ সোজা মানুষ, তাই মহা-আহ্লাদে অসময়ে এতটা পথ ছুটিয়া আসিয়াছিল। আজ দুপুরবেলা তাহার খাওয়া-দাওয়ার পরে যখন কুষম মানমুখে বালা-জোড়াটি হাতে করিয়া আনিয়া শুষ্ক মৃদুকণ্ঠে বলিয়াছিল, দাদা, কাল তারা ভুলে ফেলে রেখে গেছেন, তোমাকে একবার গিয়ে দিয়ে আসতে হবে—তখন আনন্দের আতিশয্যে সে তাহার মলিন মুখ লক্ষ্য করিবার অবকাশও পায় নাই । ঘোর-প্যাচ সে বুঝিতে পারে না, তাহার বোনের কথা সত্য নয়,—মানুষ মানুষকে এত দামী জিনিস দিতে পারে, কিংবা দিলে আর একজন তাহা গ্রহণ করে না— ফিরাইয়া দেয়, এ-সব অসম্ভব কাণ্ড তাহার বুদ্ধির অগোচর। তাই সারাটা পথ শুধু ভাবিতে ভাবিতে আসিয়াছে, এই হারানো জিনিস অকস্মাৎ ফিরিয়া পাইয় তাহার কিরূপ স্বৰী হইবেন, তাহাকে কত আশীৰ্ব্বাদ করিবেন—এইসব । কিন্তু কৈ, সে রকম ত কিছুই হইল না ? যাহা হইল, তাহা ভাল কি মন্দ, সে ঠিক ধরিতে পারিল না ; কিন্তু এত বড় একটা কাজ করিয়াও মায়ের মুখের একটা ఆసి