প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (অষ্টম সম্ভার).djvu/১৮৫

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


পণ্ডিত মশাই মুখের উপর রাখিয়া, সে ষে একলা নহে, ইহাই প্রাণ ভরিয়া জয়ভৰ করিতে লাগিল । চরণ চাকরের সঙ্গে আসিয়াছিল। রাত্রে আহারাদির পরে কুনাথের মৃত্তন জোকানে তাহার স্থান করা হইল। বিছানায় গুইয়া ছেলেকে বুকের কাছে টানিয়া কুক্কম নানাবিধ প্রশ্ন করিয়া শেষে চুপি চুপি জিজ্ঞাসা করিল, ই চরণ, তোমার বাবা কি কচ্ছেন ? চরণ ধড়ফড় করিয়া উঠিয়া গিয়া তাহার জামার পকেট হইতে একটি ছোট পুঁটুলি আনিয়া তাহার হাতে দিয়া বলিল, আমি ভুলে গেছি মা, বাবা তোমাকে দিলেন । কুষম হাতে লইয়া বুঝিল, ইহাতে টাকা আছে। চরণ কহিল, দিয়েই বাবা চলে গেলেন। কুন্তম ব্যগ্র হইয়া জিজ্ঞাসা করিল, কোথা থেকে চলে গেলেন রে চরণ হাত তুলিয়া বলিল, ঐ যে হোথা থেকে। -- এ পারে এসেছিলেন তিনি ? চরণ মাথা নাড়িয়া কহিল, হুঁ, এসেছিলেন ত । কুস্কম আর প্রশ্ন করিল না। নিদারুণ অভিমানে স্তব্ধ হইয়া পড়িয়া রহিল । সেই যেদিন দ্বিপ্রহরে তিনি একবিন্দু জল পৰ্য্যন্ত না খাইয়া চরণকে লইয়া চলিয়া গেলেন, সে-ও রাগ করিয়া দ্বিতীয় অনুরোধ করিল না, বরং শক্ত কথা শুনাইয়া দিল, তখন হইতে আর একটি দিনও তিনি দেখা দিলেন না । আগে এই পথে র্তাহার কত প্রয়োজন ছিল, এখন সে প্রয়োজন একেবারে মিটিয়া গিয়াছে। তাহার মিটিতে পারে, অন্তৰ্বামী জানেন, সে কেমন করিয়া দিনের পর দিন, প্রভাত হইতে সন্ধ্যা কাটাইতেছে। পথে গরুর গাড়ির শব্দ শুনিলেও তাহার শিরার রক্ত কিভাবে উদাম হইয়া উঠে এবং কি আশা করিয়া সে আড়ালে দাড়াইয়া একদৃষ্টি চাহিয়া থাকে। দাদার বিবাহের রাত্রে আসিলেন না, আজ আলিরাও স্বারের বাহির হইতে নিঃশব্দে ফিরিয়া গেলেন। তাহার সেদিনের কথা মনে পড়িল। দাদা ষেদিন বালা ফিরাইতে গিয়া উহার মুখ হইতে শুনিয়া আসিয়াছিল, ভগবান তাহাজের জিনিস তাহাদিগকেই প্রত্যপণ করিয়া ब्रिां८छ्न ! অবশেষে সত্যই এই যদি তাহার মনের তবে হুইয়া থাকে! নিজে আঘাত দিতে ও বাকী রাখে নাই। বারংবার প্রত্যাখ্যান করিয়াছে, মাকেও অপমান করিতে ছাড়ে নাই। ক্ষণকালের নিমিত্ত সে কোনমতেই ভাবিয়া পাইল না, সেদিন এত বড় দুর্থতি তাহার কি করিয়া হইয়াছিল! যে সম্বন্ধ সে চিরদিন প্রাণপণে অস্বীকার Yዓ¢