প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (অষ্টম সম্ভার).djvu/১৮৮

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ করিয়া সে অস্তরে উদ্বিগ্ন হইয়া উঠিল। সে বুঝিয়াছিল, কুয়ম ইহাকে আর কিছুতেই দেখিতে পারিবে না। তাহার শাশুড়ীও মনে মনে লজ্জা পাইয়াছিল। ঠিক এইরূপ বলা তাহারও অভিপ্রায় ছিল না। শুধু শিক্ষা ও অভ্যাসের দোষেই মুখ দিয়া বাহির হইয়া গিয়াছিল। 象 রান্নাঘর হইতে কুকুম গোকুলের বিধবার দিকে ভাল করিয়া চাহিয়া দেখিল । বয়স চল্লিশ পূর্ণ হয় নাই। পরনে থান কাপড়, কিন্তু গলায় সোনার হার, কানে মাকড়ি, বাহুতে তাগা এবং বাজু—নিজের শাশুড়ীর সহিত তুলনা করিয়া তাহার ঘৃণা বোধ हऐल । দাদার সহিত তাহার কথাবার্তা হইতেছিল, কি কথা তাহা শুনিতে না পাইলেও, ইহা যে তাহারই সম্বন্ধে হইতেছে তাহ বেশ বুঝিতে পারিল। তিনি পান এবং দোক্তাটা কিছু বেশী থান। সকাল হইতে শুরু করিয়া সারাদিনটাই সেটা ঘন ঘন চলিতে লাগিল। স্বানান্তে তিলক-সেবা অনুষ্ঠানটি নিখুত করিয়া সম্পন্ন করিলেন। এই দুটি ব্যাপারের সমস্ত আয়োজন সঙ্গে করিয়াই আনিয়াছিলেন। ছোট আর্শিটি পৰ্য্যস্ত ভুলিয়া আসেন নাই । কুস্কম নিত্য পূজা সারিয়া, র"াধিতে বসিয়াছিল , তিনি কাছে আসিয়া বসিলেন। এদিকে ওদিকে চাহিয়া একটু হাসিয়া বলিলেন, কই গা, তোমার গলায় মালা নেই, তেলক-সেবা করলে না, কি রকম বোষ্টমের মেয়ে তুমি বাছ ? কুসুম সংক্ষেপে কহিল, আমি ওসব করিনে । করিনে বললে চলবে কেন ? লোকে তোমার হাতে জল পৰ্য্যস্ত থাবে না যে । কুস্কম ফিরিয়া বসিয়া জিজ্ঞাসা করিল, আপনার তাহলে আলাদা রান্নার যোগাড় করে দি ! স্বামি আপনার লোক, তোমার হাতে না হয় খেলুম–কিন্তু পরে খাবে না ত । কুষম জবাব দিল না। কুঞ্জ আলিয়া জিজ্ঞাসা করিল, চরণ কখন এল কুস্কম ? কাল সন্ধ্যার সময় । কুঞ্জর শাশুড়ী কহিলেন, এই শুনি, বেন্দী বোষ্টম আর নেবে না, কিন্তু ছেলে চাকর পাঠিয়ে দিয়েচে ত ! কুঞ্জ আশ্চৰ্য্য হইয়া প্রশ্ন করিল, তুমি কোথায় শুনলে মা ? মা গাম্ভীর্য্যের সহিত বলিলেন, আমার আরও চারটে চোখ-কান আছে। তা সত্যি কথা বাছা । তারা এত সাধাসাধি হাটাইটি করলে তৰু তোমার বোন রাজি হ’ল না । লোকে নানা কথা বলবেই ত । পাড়ায় পাচজন ছেলে-ছোকরা আছে, তোমার বোনের এই সোমন্ত বয়স, এমন কাচা-সোনার রঙ—লোকে বলে, মন না שר צ