প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (অষ্টম সম্ভার).djvu/২০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রই কোথায় গিয়েছেন মা । জননী অল্প ইতস্ততঃ করিয়া কহিল, তোমার ওষুধ আনতে গেছেন। বালক প্রফুল্প হইয়া বলিল, মিষ্টি ওষুধ যেন আনেন, তেতো ওষুধ আমি আর খেতে পারিনে। দেখ মা, ভাল হয়ে আমার আগেকার মত আবার বেড়িয়ে বেড়াতে ইচ্ছে করে। কিছুক্ষণ চুপ করিয়া আগ্রহে আবার বলিয়া উঠিল, ম, আমি ভাল হব ত? জননীর চক্ষে জল আসিতেছিল, তিনি মনে মনে বলিতেছিলেন, জগদীশ্বরের মনে কি আছে তিনিই জানেন, প্রকাশ্যে কি একটা বলিতে যাইতেছিলেন, কিন্তু বিন্দু তাড়াতাড়ি নিকটে আসিয়া কহিল, কেন ভাল হবে না বাবা ? আমি কাছে থেকে তোমাকে সারিয়ে দোব । মাধব কিংবা তাহার জননী কেহই এ-পর্য্যস্ত বিন্দুর আগমন লক্ষ্য করে নাই, সহসা দুজনেই চমকাইয়া উঠিলেন। বিদুশয্যায় উপবেশন করিয়া বলিল, শুভদা, খেয়েচিস্ত ? হারাণবাবুর স্ত্রীর নাম শুভদা, বিন্দু তাহ অপেক্ষ ছোট হইলেও সম্মুখে নাম ধরিয়াই ডাকিত । শুভদা ঘাড় নাড়িয়া বলিল, হা । তোর বড় মেয়ে কোথা ? বোধ হয় ওপরে আছে । তবে একবার ডাক, বলিয়া নিজেই ডাকিল, ললনা-ও ললনা ! লৈলন উপর হইতে বলিল, কেন ? একবার নেমে আয় ত মা ? ললন আসিলে তাহার হাতে কন্যাকে দিয়া বলিল, প্রমীলাকে নিয়ে একবার ছোট ভাইটির কাছে ব’স ত মা, অনেকদিন পরে দেখা হ’ল ; তোর মার সঙ্গে ও-ঘর থেকে দুটো কথা কয়ে আসি । প্রমীলাকে ললনার হাতে দিয়া শুভদার হাত ধরিয়া বিন্দু একেবারে উপরে জাসিয়া বসিল। ঘরের দ্বার রুদ্ধ করিয়া দিয়া কহিল, বোঁ, হারাণদাদা আজ কদিন বাড়ি আসেননি ? তিন দিন । কেন আসেননি কিছু জানিস কি ? না, কিছু না । বিন্দুবাসিনীর কথার ভাবে তাহার ভয় করিতেছিল, পাছে সে কিছু একটা বলিয়া ফেলে। বিদুবাসিনী মৌন রহিয়া চিন্তা করিতে লাগিল, শুভদাও ততক্ষণ ক্রমাগত ঘামিতে লাগিল। অনেকক্ষণ পর বিন্দু বলিল, শুভদা; ইচ্ছে থাকলেও এমন অনেক কথা আছে যা মিষ্টি করে বলা যায় না—জানিস্ত ? } •