প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (অষ্টম সম্ভার).djvu/২০১

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


পণ্ডিত মশাই জাসিত, তাহাদেরও পুকুরে তালপাতা ধুইয়া জানিতেই দিন কাটিয়া বাইত। শৃঙ্খলা জন্ম ছিল শুধু ঠাকুরের আরতি-শেষে প্রসাদ-ভক্ষণে। এটা বোধকরি আকৃত্রিম ভক্তি বশতঃই-ছাত্রেরা এ-সময়ে অনুপস্থিত থাকিয়া গৌর-নিতাইয়ের অমৰ্য্যাদা করিতে পছন্দ করিত না । এমন সময়ে অকস্মাং একদিন বৃন্দাবন তাহার পাঠশালায় সমৃদয় চিত্ত নিযুক্ত করিয়া দিল। পোড়োদের তালপাত ধুইয়া আনিবার সময় ছয় ঘণ্টা হইতে কমাইয়া পোনের মিনিট করিল এবং সারাদিন আদর্শনের পর শুধু আরতির সময়টায় গৌরাঙ্গ-প্রেমে আকৃষ্ট হইয়া, তাহারা পঙ্গপালের ন্যায় ঠাকুর-দালান ছাইয়া না ফেলে সেদিকেও খর-সৃষ্টি রাখিল । দিন-দশেক পরে একদিন বৈকালে বৃন্দাবনের তত্বাবধানে পোড়োবা সারি দিয়া দাড়াইয়া তারস্বরে গণিত-বিষ্ঠায় বুৎপত্তি লাভ করিতেছিল, একজন ভদ্রলোক প্রবেশ করিলেন । বৃন্দাবন সসন্ত্রমে উঠিয়া বসিতে আসন দিয়া চাহিয়া রছিল, চিনিতে পারিল না । আগন্তুক তারই সমবয়সী । আসন গ্রহণ করিয়া হাসিয়া বলিলেন, কি ভায়া, চিনতে পারলে না । বৃন্দাবন সলজে স্বীকার করিয়া ললিল, কৈ না। তিনি বলিলেন, আমার কাজ আছে, তা পরে জানাব । মামার চিঠিতে তোমার অনেক স্বখ্যাতি শুনে বিদেশ যাবার পূৰ্ব্বে একবার দেখতে এলাম—আমি কেশব । বৃন্দাবন লাফাইয়া উঠিয়া এই বাল্যস্বত্বংকে আলিঙ্গন করিল। তাহার ভূতপূৰ্ব্ব ইংরাজিশিক্ষক দুর্গাদাসবাবুর ভাগিনেয় ইনি। পোনের-ষোল বংসর পূৰ্ব্বে এখানে পাঁচ-ছয় মাস ছিলেন, সেই সময় উভয়ের অতিশয় বন্ধুত্ব হয়। ভূগর্ণদাসবাবুর স্ত্রীর মৃত্যু হইলে কেশব চলিয়া যায়, সেই অবধি আর দেখা হয় নাই। তথাপি কেহই কাহাকেও বিস্তৃত হয় নাই এবং তাহার শিক্ষকের মুখে বুন্দাবন প্রায়ই এই বাল্যবন্ধুটির সংবাদ পাইতেছিল। কেশব পাচ-ছয় বৎসর হইল এম. এ. পাশ করিয়া কলেজের শিক্ষকতা করিতেছিল, সম্প্রতি সরকারী চাকরিতে বিদেশ যাইতেছে। কুশলাদি প্রশ্নের পর সে কছিল, আমার মামা মিথ্যে কথা ত দূরের কথা, কখনো বাড়িয়েও বলেন না ; গতবারে চিঠিতে তিনি লিখেছিলেন, জীবনে অনেক ছাত্রকেই পড়িয়েছেন ; কিন্তু তুমি ছাড়া আর কেউ যথার্থ মানুষ হয়েচে কি-না তিনি জানেন না। যথার্থ মানুষ কখনও চোখে দেখিনি ভাই, তাই দেশ ছেড়ে যাবার আগে তোমাকে দেখতে এসেছি । কথাগুলা বন্ধুর মুখ দিয়া বাহির হইলেও বৃন্দাবন লজ্জায় এতই অভিভূত হুইয়া $3