প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (অষ্টম সম্ভার).djvu/২০৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


*ਚਿਲ ਜੋੜੇ উঠিল। পণ্ডিত মশাই, বাবা জার চেয়েও দেখচে না, কথাও বলচে না। বৃন্দাবন সস্নেহে তাহার চোখ মুছাইয়া দিয়া হাত ধরিয়া তাহাদের বাটীতে আসিয়া উপস্থিত হইল । শিবুর তখন শেষ সময়। প্রতি বৎসর এই সময়টায় ওলাউঠার প্রাক্তাব হয়, এ বৎসর এই প্রথম । কাল সন্ধ্য-রাত্রেই শিবু রোগে আক্রান্ত হইয়া বিনা চিকিৎসায় এতক্ষণ পৰ্য্যন্ত টিকিয়া ছিল, বৃন্দাবন আলিবার ঘন্টা-খানেক পরেই দেহত্যাগ করিল। বাঙলাদেশের প্রায় প্রতি গ্রামেই যেমন আপনা-আপনি শিক্ষিত এক-আধজন ডাক্তার বাস করেন, এ-গ্রামেও গোপাল ভাক্তার ছিলেন । কাল রাত্রে তাহাকে ডাকিতে যাওয়া হয়। কলেরা শুনিয়া তিনি দু'টাকা ভিজিট নগদ প্রার্থনা করেন। কারণ, দীর্ঘ অভিজ্ঞতার ফলে তিনি ঠিক জানিতেন, ধারে কারবার করিলে, এ-সব রোগে তাহার ঔষধ-খাওয়া ছোটলোকগুলা পরদিন ভিজিট বুঝাইয়া দিবার জন্য বাচিয়া থাকে না । শিবুর স্ত্রীও অত রাত্রে নগদ টাকা সংগ্ৰহ করিতে না পারিয়া, নিরুপায় হইয়া 'মুন-জল’ খাওয়াইয়া, স্বামীর শেষ চিকিৎসা সমাধা করিয়া, সারা রাত্রি শিয়রে বসিয়া মা শীতলায় কৃপা প্রার্থনা করে । তারপর সকালবেলা এই ৷ বৃন্দাবন বড়লোক, এ-গ্রামে তাহাকে সবাই মান্ত করিত। মৃত স্বামীর গতি' করিয়া দিবার জন্য শিবুর সদ্য-বিধবা তাহার পায়ের কাছে কাদিয়া পড়িল । শিবুর সম্বলের মধ্যে ছিল, তাহার অনশন ও অৰ্দ্ধাশনক্লিষ্ট হাত দুখানি এবং দুটি গাভী । তাহারই একটিকে বন্ধক রাখিয়া এ বিপদে উদ্ধার করিতে হইবে। কোন কিছু বন্ধক না রাখিয়াও বৃন্দাবন তাহার জীবনে এমন অনেক গতি' করিয়াছে, শিবুরও গতি' করিয়া অপরাহ্ন বেলায় ঘরে ফিরিয়া আসিল । সন্ধ্যা উত্তীর্ণ হইয়া গিয়াছিল। তখনও বৃন্দাবন চওঁীমগুপের বারানায় একটা মান্থর পাতিয়া চোখ বুজিয়া শুইয়াছিল, সহসা পদশা শুনিয়া চাহিয়া দেখিল, মৃত শিবুর সেই ছেলেটি আসিয়া দাড়াইয়াছে। আয় বো’স ষষ্ঠীচরণ, বলিয়। বৃন্দাবন উঠিয়া বসিল । ছেলেটি বার-দুই ঠোঁট ফুলাইয়া পণ্ডিত মশাই’ বলিয়াই কাদিয়া ফেলিল । সদ্য পিতৃহীন শিশুকে বৃন্দাবন কাছে টানিয়া লইতেই সে কাদিতে কাদিতে কহিল, কেটাও বমি কচ্চে । কেটা তাহার ছোট ভাই, সেও মাঝে মাঝে দাদার সহিত পাঠশালে লিখিতে পড়িতে আসিত । আজ রাত্রে গোপাল ডাক্তার ভিজিটের টাকা আদায় না করিরাই বৃন্দাবনের সহিত কেটাকে দেখিতে আসিলেন। তাহার নাড়ী দেখিলেন, জিভ দেখিলেন, ঔষধ দিলেন, ???