প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (অষ্টম সম্ভার).djvu/২১

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


もS* শুভদা শুকমুখে বলিল, জানি—কেন ? হারাণদাদা আজ তিন-চারদিন বাড়ি আসেননি ; —মনে কর যদি তার সম্বন্ধেই কোন অশুভ কথা বলতে হয় । শুভদার সমস্ত শরীর দিয়া তড়িৎ-প্রবাহ ছুটিয়া গেল ;–তিনি বুঝি বেঁচে নাই ? ওকি, কাপচি কেন ? কে বললে তিনি বেঁচে নেই ? বেঁচে আছেন ? বালাই, বেঁচে কেন থাকবেন না ? বেঁচে আছেন, মুস্থ শরীরে আছেন । সুস্থ শরীরে বাচিয়া আছে শুনিতে পাইল, তথাপি শুভদা কথা কহিতে পারিল না । অনেকক্ষণ পরে মানমুখে ধীরে ধীরে জিজ্ঞাসা করিল, তবে কি ? সেই কথাই বলতে এসেছি, কিন্তু তুই আমন করলে কেমন ক’রে বলি ? শুভদা দীর্ঘশ্বাস ফেলিয়া বলিল, আমন আর করব না । কি হয়েচে, বল । চুরি করেচেন বলে নদীরা হাজতে দিয়েচে । 感 হাজতে দিয়েচে ? শুভদার সমস্ত মুখ পাংশুবর্ণ হইয়া গেল—তবে কি হবে ? বিন্দুবাসিনী স্বাভাবিক স্বরে বলিল, কি আর হবে ? খালাস করে আনতে হবে । তা কি হয় ? হয় না ত কি হাজতে গেলেই লোকে জেলে যায় ? অনেকক্ষণ চুপ করিয়া থাকিয়া শুভদা বলিল, বিন্দু, তোমার বাপের কাছে একবার যাব { বিদুঘাড় নাড়িল । সে জানিত শুভদার মুখ দেখিলে পাষাণ গলিবে, কিন্তু ভবতারণ গাজুলী গলিবে না। তাই অমত করিয়া বলিল, গিয়ে কি হবে ? আমাদের কেউ নেই ; তিনি যদি দয়া করে কোন উপায় ক’রে দেন ! যার কেউ নেই তার ভগবান আছেন । হারাণদাদাতে বাবাতে চিরকাল শত্রুত, তাই বাবার কাছে গেলে কোন ফল হবে না। তবে উপায় ? উপায় আমি করে দোব। না হলে কি শুধু এই খবরটাই দিতে এসেচি ? কিন্তু আমি যা বলব করতে পারবে ? পারব | যতই শক্ত হোক ? শুভদা দৃঢ়স্বরে বলিল, ই । তবে শোন, দুশ না তিনশ টাকা চুরি করেচেন বলে নদীর উার নামে নালিশ করেচে ।