প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (অষ্টম সম্ভার).djvu/২৪৬

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ কেষ্ট আশ্রয় পাইল । কাদম্বিনীর স্বামী নবীন মুখুজ্যের ধান-চালের আড়ত ছিল। তিনি বেল বারোটার পর বাড়ি ফিরিয়া কেষ্টকে বক্র কটাক্ষে নিরীক্ষণ করিয়া প্রশ্ন করিলেন, এটি কে ? f কাদম্বিনী মুখ ভারী করিয়া জবাব দিল, তোমার বড়কুটুম গো, বড়কুটুম । নাও, খাওয়াও পরাও, মানুষ কর—পরকালের কাজ হোক । নবীন সংশাশুড়ীর মৃত্যু-সংবাদ পাইয়াছিলেন, ব্যাপারটা বুঝিলেন, কহিলেন, বটে ! বেশ নধর গোলগাল দেহটি ত ! স্ত্রী কহিলেন, বেশ হবে না কেন ? বাপ আমার বিষয়-আশয় যা-কিছু রেখে গিয়েছিলেন, সে সমস্তই মাগী ওর গভরে ঢুকিয়েচে । আমি ত তার একটি কানাকড়িও পেলুম না । বলা বাহুল্য, এই বিষয়-আশয় একখানি মাটির ঘর এবং তৎসংলগ্ন একটি বাতাবি-নেবুর গাছ। ঘরটিতে বিধবা মাথা গুজিয়া থাকিতেন এবং নেবুগুলি বিক্রি করিয়া ছেলের ইস্কুলের মাহিনা যোগাইতেন । নবীন রোষ চাপিয়া বলিলেন, খুব ভাল । কাদম্বিনী কহিলেন, ভাল নয় আবার ! বড়কুটুম যে গো ! তাকে তার মত রাখতে হবে ত এতে আমার পাচুগোপালের বরাতে একবেলা এক সন্ধ্যা জোটে ত তাই ঢের ! নইলে আখ্যাতিতে দেশ ভরে যাবে। বলিয়া পাশের বাড়ির দোতলা ঘরের বিশেষ একটা খোলা জানালার প্রতি রোধকধায়িত লোচনের অগ্নিদৃষ্টি নিক্ষেপ করিলেন । এই ঘরটা তার মেজ-জা হেমাঙ্গিনীর । কেষ্ট বারান্দায় একধারে ঘাড় হেট করিয়া বসিয়া লজ্জায় মরিয়া যাইতেছিল। কাদম্বিনী উড়ারে ঢুকিয়া একটা নারিকেল মালায় একটুখানি তেল আনিয়া, তাহার পাশে ধরিয়া দিয়া কছিলেন, আর মায়া-কান্ন। কাদতে হবে না, যাও, পুকুর থেকে ডুব দিয়ে এল গে—বলি ফুলেল তেল-টেল মাখা অভ্যাস নেই ত ? স্বামীকে উদ্দেশ করিয়া চেচাইয়া বলিলেন, তুমি চান করতে যাবার সময় বাবুকে ডেকে নিয়ে যেয়ো গে, নইলে ডুবে মলেন্টলে বাড়িম্বন্ধ লোকের হাতে দড়ি পড়বে। কেষ্ট ভাত খাইতে বসিয়াছিল, সে স্বভাবতঃই ভাতটা কিছু বেশী খাইত। তাহাতে কাল বিকাল হইতে খাওয়া হয় নাই, আজ এতখানি পথ হাটিয়া আসিয়ছে --বেলাও হইয়াছে। নানা কারণে পাতের ভাতগুলি নিঃশেষ করিয়াও তাহার ঠিক ক্ষুধ মিটে নাই। নবীন অদূরে থাইতে বসিয়াছিলেন ; লক্ষ্য করিয়া স্ত্রীকে কহিলেন, কেষ্টকে আর দুটি ভাভ দাও গো— है७ॐ