প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (অষ্টম সম্ভার).djvu/২৫১

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


মেজদিদি তোমার ভাত ঢাকা আছে, খাও গে, মা খেয়ে-দেয়ে ঘুমোচ্ছে। হেমাঙ্গিনী অবাক হইয়া কছিলেন, কেষ্টর এখনও খাওয়া হয়নি, তোর মা খেয়ে ঘুমোচ্চে কি রে—ই কেষ্ট, আজ এত বেলা হল কেন ? . কেষ্ট ঘাড় হেঁট করিয়া রহিল। টুনি তাহার হইয়া জবাব দিল, কেষ্ট মামার রোজ ত এমনি বেলাই হয় । বাবা খেয়ে-দেয়ে দোকানে ফিরে গেলে তবে ত ও খেতে আসে । হেমাঙ্গিনী বুঝিলেন, কেষ্টকে দোকানের কাজে লাগান হইয়াছে। তাঁহাকে বসাইয়া খাওয়ান হইবে, এ আশা অবঙ্গ তিনি করেন নাই ; কিন্তু একবার এই বেলার দিকে চাহিয়া, একবার এই ক্ষুধা ও তৃষ্ণায় আৰ্ত্ত শিশুদেহের পানে চাহিয়া, তাহার চোখ দিয়া জল পড়িতে লাগিল । আঁচলে চোখ মুছিতে মুছিতে তিনি বাড়ি চলিয়া গেলেন। মিনিট-দুই পরে একবাটি দুধ হাতে ফিরিয়া আসিয়া, রান্নাঘরে চুকিয়াই শিহরিয়া মুখ ফিরিয়া দাড়াইলেন। কেষ্ট খাইতে বসিয়াছিল । একটা পিতলের থালার উপর ঠাণ্ডা শুকনা ভ্যালাপাকান ভাত । একপাশে একটুখানি ডাল ও কি একটু তরকারির মত । দুধর্টুকু পাইরা তাহার মলিন মুখখানি হাসিতে ভরিয়া গেল। - হেমাঙ্গিনী দ্বারের বাহিরে আসিয়া দাড়াইয়া রহিলেন । কেষ্ট খাওয়া শেষ করিয়া পুকুরে অঁাচাইতে চলিয়া গেলে একটিবার মুখ বাড়াইয়া দেখিলেন, পাতে গোনা একটিও ভাত পড়িয়া নাই । ক্ষুধার জালায় সে সেই অল্প নিঃশেষ করিয়া খাইয়াছে । হেমাঙ্গিনীর ছেলে ললিতও প্রায় সেই বয়সী । নিজের অবর্তমানে নিজের ছেলেকে এই অবস্থায় হঠাৎ কল্পনা করিয়া ফেলিয়া কান্নার ঢেউ তাহার কণ্ঠ পর্য্যন্ত ফেনাইয়া উঠিল । তিনি সেই কাল্প চাপিতে বাড়ি চলিয়া গেলেন। সদি উপলক্ষ করিয়া হেমাঙ্গিনীর মাঝে মাঝে জর হুইত, দিন-দুই থাকিয় আপনি ভাল হইয়া যাইত। দিন-কয়েক পরে এমনি একটু জর বোধ হওয়ায় সন্ধ্যার পর ৰিছানায় পড়িয়াছিলেন। ঘরে কেহ ছিল না, হঠাৎ মনে হইল কে যেন অতি সন্তপণে কবাটের আড়ালে দাড়াইয়া উকি মারিয়া দেখিতেছে। ডাকিলেন, কে রে ওখানে দাড়িয়ে, ললিত ? কেহ সাড়া দিল না। আবার ডাকিতে, আড়াল হইতে জবাব আসিল, আমি । কে আমি রে ? জায়, ঘরে এসে বোস । 3够》 «ملـــس بw