প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (অষ্টম সম্ভার).djvu/২৫৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


८भजिि চোরের মত সন্তপণে পা ফেলিয়া কেষ্ট আলিয়া উপস্থিত হইল। চুল কক্ষ, মুখ গুৰু। কোখার পালিয়েছিলি রে কেষ্ট ? পালাইনি ত। কাল সন্ধ্যার পর দোকানে ওয়েছিলুম, ঘুম ভেঙ্গে দেখি, দুপুর রাত্তির । ক্ষিদে পেয়েছে মেজদি । ও-বাড়িতে গিয়ে খেগে যা । বলিয়া হেমাঙ্গিনী নিজের রুটির থালায় মনোযোগ করিলেন । মিনিট-খানেক চুপচাপ দাড়াইয়া থাকিয়া কেষ্ট চলিয়া যাইতেছিল, হেমাঙ্গিনী ডাকিয়া ফিরাইয়া কাছে বসাইলেন, এবং সেইখানেই ঠাই করিয়া রাখুনীকে ভাত দিতে বলিলেন । তাহার খাওয়া প্রায় অৰ্দ্ধেক অগ্রসর হইয়াছিল, এমন সময় উমা বহিৰ্ব্বাচী হইতে ভ্রস্তব্যস্তভাবে ছুটিয়া আসিয়া নিঃশব্দ ইঙ্গিতে জানাইল-বাবা আসচেন যে ! মেয়ের ভাব দেখিয়া মা আশ্চৰ্য্য হইয়া বলিলেন, তাতে তুই অমন করছিল কেন ? উমা কেষ্টর পিছনে আসিয়া দাড়াইয়াছিল, প্রত্যুত্তরে তাহাকেই আঙুল দিয়া দেখাইয়া, চোখ-মুখ নাড়িয়া তেমনি ইসারায় প্রকাশ করিল—খাচ্ছে যে ! কেষ্ট কৌতুহলী হইয়া ঘাড় ফিরাইয়াছিল। উমার উৎকণ্ঠিত দৃষ্টি, শঙ্কিত মুখের ইসারা তাহার চোখে পড়িল ৷ এক মুহূর্তে তাহার মুখ সাদা হুইয়া গেল। কি জাস যে তাহার মনে জন্মিল সেই জানে। মেজদি, বাৰু আসচেন, বলিয়াই সে ভাত ফেলিয়া ছুটিয়া গিয়া রান্নাঘরের দোরের আড়ালে দাড়াইল । তাহার দেখাদেখি উমাও আর একদিকে পলাইয়া গেল। অকস্মাং গৃহস্বামীর আগমনে চোরের দল যেরূপ ব্যবহার করে, ইহারাও ঠিক সেইরূপ আচরণ করিয়া বলিল । প্রথমটা হেমাঙ্গিনী হতবুদ্ধির মত একবার এদিক একবার ওদিকে চাহিলেন, তার পরে পরিশ্রান্তের মত দেয়াল ঠেস দিয়া এলাইয়া পড়িলেন । লজ্জা ও অপমানের শূল যেন তাহার বুকখানা এফেড়-ওফোড় করিয়া দিয়া গেল। পরক্ষণেই বিপিন আসিয়া উপস্থিত হইলেন। সম্মুখেই স্ত্রীকে ওভাবে বসিয়া থাকিতে দেখিয়া কাছে আসিয়া উদ্বিগ্ন-মুখে প্রশ্ন করিলেন, ও কি, খাবার নিয়ে অমন করে বলে যে ? হেমাঙ্গিনী জবাব দিলেন না । বিপিন অধিকতর উৎকণ্ঠিত হইয়া বলিলেন, আবার জর হল নাকি ? অভুক্ত ভাতের খালাটার পানে চোখ পড়ায় বলিলেন, এখানে এত ভাত ফেলে উঠে গেল কে ? ললিত বুঝি ? হেমাঙ্গিনী উঠিয়া বসিয়া বলিলেন, না, সে নয়-ও-বাড়ির কেষ্ট খাচ্ছিল, তোমার ভয়ে আড়ালে লুকিয়েচে । কেন ? - হেমাঙ্গিনী বলিলেন, কেন, তা তুমিই ভাল জান। আর শুধু সে নয় ; তুমি ጳፀፄ