প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (অষ্টম সম্ভার).djvu/২৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


রামমণি ও দুর্গামণি নাম না রাখিয়া যে শুভদা কন্যা দুইটির নাম ললনা ও ছলনা • রাখিয়াছিল, তাহাতে ঠাকুরঝি রাসমণির আর মনস্তাপের অবধি ছিল না। বাজারের তাহাদের মত ললনা ছলনা নাম দুইটা অষ্টপ্রহর তাহার কর্ণে বিধিতে থাকিত। ললনা নামটা তৰু কতক মাফিক-সই ; কিন্তু ছিঃ–ছলনা আবার কি নাম ! ছলনাকে না দেখিতে পাবার কারণ অৰ্দ্ধেক তাহার ঐ নামটা । লোকে ঠাকুরদের নামে ছেলেমেয়েদের নাম রাখে ; কেন না তাঁহাদের ডাকিতেও ভগবানের নাম করা হয়, কিন্তু এ দুইটা মেয়েকে ডাকিলে যেন পাপের ভার একটু একটু করিয়া বাড়িতেছে মনে হয় । ললনাময়ী, ছলনাময়ী হারাণবাবুর দুই কন্যা। একজন বড়, একজন ছোট ; একজন সপ্তদশবর্ষীয়া, একজন একাদশ বর্মীয়া ; একজন বিধবা, একজন অনূঢ় । এই ত গেল পরিচয়ের কথা । এখন রূপ-গুণের কথা, তাহা আমি বলিতে পারিব না। তবে গঙ্গার ঘাটে ললনা স্নান করিতে যাইলে বর্ষীয়সীরা বলাবলি করিতেন, ঠাকুর বিধবা করবেন বলেই ছুড়ির এত রূপ দিয়েছেন ? ললনা অন্যদিকে মুখ ফিরাইয়া ডুব দিতে থাকিত। সমবয়স্কর কানাকানি করিত। কি বলিত তাহারাই জানে, তবে ভাবে বোধ হয়, বিশেষ প্রশংসা করিত না । ললনার তাঁহাতে কিছু আসে যায় না । সে বেশি কথাও কহিত না ; বেশি কথায় থাকিতও না—দুই চারিটি কথা কহিত, স্নান করিত, জল লইত, উঠিয়া বাট চলিয়া আসিত । কিন্তু ছলনার স্বতন্ত্র কথা । সে অধিক কথা কহিতে ভালবাসিত, অধিক কথায় থাকিতে ভালবাসিত, আটটার সময় স্বান করিতে গিয়া এগারটার কম বাটী ফিরিয়া আসিত না, গায়ে গহনা নাই বলিয়া মুখ ভারি করিত, মোট চালের ভাত খাওয়া যায় না বলিয়া কলহ করিত, পাতে মাছ নাই কেন বলিয়া থালাস্কন্ধ ঠেলিয়া ফেলিয়া দিত ; এইরূপে দিনের মধ্যে শত সহস্র কাজ করিত। তাহারও শরীরে রূপ ধরে না । তপ্ত কাঞ্চনের মত বর্ণ, গোলাপপুষ্পের মত মুখখানি । তাহাতে জদুটি যেন তুলি দিয়া চিত্রিত করা, পাতলা দুখানি ঠোট পান খাইয়া লাল করিয়া দর্পণ লইয়া নির্জনে ছলনাময়ী আপনার রূপ দেখিয়া আপনি গৌরবে ভরিয়া উঠিত। মনে মনে বলিত, এই বয়সে এত রূপ, না জানি বয়সকালে কি হইবে ! সমস্ত অঙ্গে কত গহনা থাকিবে ; এইখানে বালা, এইখানে অনন্ত, এইখানে বাজু, এইখানে হার, চিক, কণ্ঠমালা, সাতনরি, দশনরি, বিশনরি, আরও কত কি—উঃ, তখন কি হইবে ! এ আনন্দ ছলনা একা বহিতে পারিত না, চুটিয়া দিদির কাছে আসিয়া বসিত। ר ל جسسية ما