প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (অষ্টম সম্ভার).djvu/২৮১

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


পথ-নির্দেশ গুণেন্দ্র একখানা বই তুলিয়া লইয়া হাসিয়া বাহিরেচলিয়া গেল। এই ঘরটিতে হেমনলিনী দিবারাত্র থাকিত বলিয়া, গুণেন্দ্র আজকাল তাহার শোবার ধরে বসিয়াই পড়া-শুনা করিত। একদিন রবিবারে পুরবেলা হেম বাহির হইতে ভাকিয়া বলিল, গুণীদা, আলৰ ? গুণী ভিতর হইতে বলিল, এস। হেম ঘরে ঢুকিয়াই বলিল, তুমি সব সময়ে এই শোবার ঘরে বসেই বই পড় ८कन ? দোষ কি ? এ-ঘরে কি বিষ্ঠে কম হয় ? তোমার পড়বার ঘরেই কি এতদিন কম হয়েছিল ? গুণেন্দ্র বলিল, কম হয়নি বটে, কিন্তু কাচ হয়েছিল—এই ঘরে সেগুলো পাকছে । হেম প্রথমে হাসিয়া উঠিল, কিন্তু কথাটা বুঝিতে না পারিয়া গম্ভীর হইয়া বলিল, তোমার কেবল তামাসা । একটা কথাও তুমি সোজা করে বলতে জান.না ! গুণী নিঃশবে হাসিতে লাগিল, জবাব দিল না । হেম বলিল,আমি কিন্তু জানি। ও-ঘরে আমি থাকি বলেই তুমি যাও না। আমাকে তুমি লজ্জ কর। আমি কিন্তু তোমাকে একটুও লজ্জা করিনে । গুণী জিজ্ঞাসা করিল, কেন কর না, করা ত উচিত। হেম হাত দিয়া একগাছা চুল কপালের উপর হইতে পিঠের দিকে সরাইয়া দিয়া বলিল, তোমাকে আবার লজ্জা করতে যাব কি, তুমি কি পর ? সে হবে না গুণীদ, চল সে ঘরে। বলিয়া সে বইগুলি তুলিয়া লইয়া বাহির হইয়া গেল । হেমের সর্বদ ব্যবহারের জন্য হার, চুড়ি, বালা প্রভৃতি কতকগুলা অলঙ্কার গুণী কিনিয়া আনিয়াছিল । স্বলোচনা দেখিয়া বলিলেন, কেন বাবা এ সব ? গুণী বলিল, এই কটিতে কি হবে মা, আরো চের চাই। শুধু হাতে ত মেয়ে পার হবে না | স্বলোচনা আর কথা কহিতে পারিলেন না । কিন্তু তিনি মনে মনে উদ্বিগ্ন হইয়া পড়িয়াছিলেন । এই দুটিতে কেমন করিয়া যে এত সত্বর এত আপনার হইয়া গেল, এই কথা তিনি যখন তখন ভাবিতে লাগিলেন। একদিন তিনি গুণীকে ডাকিয়া বলিলেন, এই সামনের অক্সান যেন বয়ে না যায় বাবা । যেমন করে হোক, ওর বিয়ে দিতেই হবে । মেয়ে বড় হয়ে উঠেছে ৷ গুণী বলিল, সেজন্য তুমি নিশ্চিত থাক মা। কিন্তু হাত-পা বেঁধে জলে ফেলেও ত দিতে পারব না। একটি স্থপাজ চাই । ቅዓ$