প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (অষ্টম সম্ভার).djvu/২৯১

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


পথ-নির্দেশ গুণী মুখ নীচু করিয়া বলিল, তাকে ত চিরকালই স্নেহ করি মা ! সেদিমও করেছি, আজও করি। তার জন্তে তোমার কোন ভাবনা নেই, আমি বেঁচে থাকতে সে কোন দুঃখ পাবে না । স্বলোচনা বলিলেন, তা জানি । আচ্ছ, এই আমার শেষ আশীৰ্ব্বাদ তোদের উপর রইল, যদি কোনদিন আবগুক হয়, এ-কথা তাকে বলিস। আর একটা কথা বাবা-এখানে থাকতে হেম আমাকে চিঠি লিখেছিল, মা, যেখানে তুমি আছ, সে বাড়ির হাওয়া লাগলে সমস্ত নবদ্বীপ উদ্ধার হয়ে যেতে পারে। ও-বাড়িতে থেকেও যদি তোমাদের পুণ্যসঞ্চয় না হয়, বৈকুণ্ঠেও হবে না । আয় বাবা, আমার মরণ-কালে আমার মাথায় হাত দিয়ে আশীৰ্ব্বাদ কর, যেন পাপমুক্ত হই। আমার অপরাধ যে কত বড় গুণী, সে আমি ছাড়া আর কেউ জানে না । গুণী নিঃশব্দে কাদিতে লাগিল । সে যথার্থই স্থলোচনাকে মায়ের মত ভালবাসিত । স্বলোচনা বলিলেন, হেমকে আমি কোন কথাই বলে যেতে পারব না। তাৰ দিকে তাকালেই আমার বুকের ভিতর হু হু করে জলতে থাকে । লোকে সংঘার গল্প করে, আমি সংমার চেয়েও তার শক্ৰ । - পরদিন অত্যন্ত বাড়াবাড়ি হইল। র্তাহার দ্বাচিবার অাশা সকলেই ত্যাগ কৰিল । তাহার শ্বাসকষ্টের সূত্রপাতেই তিনি হেমকে কাছে ডাকাইয়া তাহার চিবুক স্পর্শ করিয়! কাদিয়া ফেলিলেন । হেম, তবে বিদায় হ’লাম মা ! হেম মায়ের বুকের উপর পড়িয়া ফু পাইয়া কাদিতে লাগিল। কতক্ষণ পরে তিনি ইসারায় উঠতে বলিয়া বলিলেন, কাদিসনে মা। হুখে-দুঃখে পনের বছর তোকে বুকে করে কাটিয়েচি ; আজ সময় হয়েছে, তাই তোর বাপের কাছে যাচ্ছি। আজ আমার মুখের দিন, আজ আমি কাদতাম না হেম, আজ হেসে আমোদ করে যেতাম, যদি না তোকে এমন করে নষ্ট করতাম । আমি লজ্জায়, দুঃখে তোর মুখের পানে যে চাইতেই পারছি না মা ! হেম কাদিতে কাদিতে বলিল, কেন অমন করে তুমি বলছ মা, জামার কপালে ঘা ছিল তাই হয়েছে, এতে তোমার হাত কি ? মুলোচনা বাধা দিয়া বলিলেন, আমার হাত ছিল, সে হাত আমি নিজের হাতেই কেটেছি। ভূই বলছিল, মন্দ কপাল, কিন্তু তোর কপালের মত ভাল কপাল এ-রাজ্যে একটি মেয়েরও ছিগ না, আমি যদি না মাঝে পড়ে সমস্ত নষ্ট করে দিতাম। আমি যে সমস্তই জানি । তাতেই ত এ দুঃখ রাখবার জায়গা খুঁজে পেলাম না। অজানা পাপের উপায় আছে, কিন্তু জেনে-গুনে পাপ করার কোথায় মোচন পাব মা ? তাহার চোখ দিয়া টপ টপ করিয়া বড় বড় মঞ্চ গড়াইরা পড়তে লাগিল । হেম दैb-3 نویس