প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (অষ্টম সম্ভার).djvu/২৯৬

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ ভাবি। হতে পারে, আলাদা রকম করে ভাবি, কিন্তু ভাবনার আসল বস্তুটা যে এক, এই কথাই মা হয়ত মরণকালে তোমাকে উপদেশ দিয়ে গেছেন। হেম অনেকক্ষণ চুপ করিয়া বলিল, শুধু ভাবলেই ত হয় না, তার উপায় করাও চাই । - গুণী বলিল, চাই বই কি ভাই ! এই উপায় বার করা নিয়েই এত দ্বন্দ্ব, এত গণ্ডগোল। তোমার উপায়টা আমি পছন্দ্ব করিনে, আমারটা তুমি পছন্দ কর না। এটা অনুমানের জিনিস, প্রমাণের জিনিস নয় বলেই তর্ক শেষ হয় না, ঝগড়াও থামে না, কিন্তু তোমার ধ্ন"ধবার সময় হ’ল যে হেম ? হেম নিঃশব্দে ধীরে ধীরে উঠিয়া গেল। গুণী শূন্তদৃষ্টিতে শূন্তের দিকেই চাহিয়া ब्रश्शि । গুণীদা ? .” গুণী চমকিয়া মুখ ফিরাইয়া বলিল, কি হেম ? হেম বলিল, আচ্ছ, আমি যে-পথে চলছি, সে কি ঠিক পথ । কি করে বলব ভাই ? সে-কথা তুমি জান। যদি আনন্দ পাও, শাস্তি পাও, নিশ্চয়ই তা হ’ল ঠিক পথ । কিন্তু আমি ত কিছুই পাইনে ! তাহার ব্যথিত কণ্ঠস্বরে গুণীর চোখ ফাটিয়া জল আসিতে চাহিল। সে বহুক্লেশে তাহা রোধ করিয়া আস্তে আস্তে বলিল, তবে কর কেন ? হেম বলিল, কি জানি গুণীদা, কিসে যেন আমাকে টেনে নিয়ে যায়, যেন জোর কল্পে করায়, আমি থামতে পারিনে । গুণী কি বলিবে, হঠাৎ ভাবিয়া পাইল না, তার পর বলিল, হয়ত নূতন বলেই প্রথমে মুখ পাচ্ছ না, শেষে নিশ্চয় পাবে । হেম উংস্থক হইয়া জিজ্ঞাসা করিল, পাব ? নিশ্চয় পাবে। ধৰ্ম্মে যদি মুখ-শাস্তি না পাও, তবে আর কিসে? আমি আশীৰ্ব্বাদ করি, একদিন নিশ্চয় তুমি স্বর্থী হবে। দুইদিন পরে জ্যোৎস্নার আলোয় খোলা ছাদের উপর পাট পাতিয়া গুণী চুপ করিয়া গুইয়া ছিল। হেম আসিয়া পায়ের কাছে বলিয়া পড়িল—তোমার পায়ে হাত বুলিয়ে দেব গুণীদ । দাও,বলিয়া গুণী চোখ বুজিয়া রহিল। চন্দ্রালোকে দীপ্ত হেমের মুখের দিকে و س۹b