প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (অষ্টম সম্ভার).djvu/২৯৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


পথ-নির্দেশ চাহিতে সাহস করিল না। হেম নিঃশব্দে হাত বুলাই স্থা দিতে দিতে হঠাৎ বলি, গুণীদ, বিধবার বিয়ে হওয়া ভাল ? গুণী চোখ বুজিয়াই বলিল, তুমি কি বল ? • হেম বলিল, আমি বলতে আলিনি, শুনতে এসেচি। গুণী বলিল, পাৰে হাত বুলোমটা বুঝি তার ভূমিকা ? হেম সহজ ভাবে বলিগ, না, তা নয়। তোমাব পায়ের কাছে বসলে আমার হাত দেবার লোভ হয় । গুণী চুপ করিয়া রহিল। নিজের জিভকে সে বিশ্বাস করিতে পারিল না। হুেম বলিল, কৈ বললে না ? গুণী তথাপি চুপ করিয়া রহিল। হেম পাধের তলায় একটি ক্ষুদ্র চিমটি কাটিয়া বলিল, বল শীগগিরি। গুণী বলিল, বলব, কিন্তু জাগে আমার কথার জবাব দাও । কি ? তোমার স্বামীকে তুমি ভাগবাসতে কি ? একটুও না । সে-কথা আমার কোনদিন মনেও হয়নি। সেখানকার একটি পয়সার জিনিস সঙ্গে আনিনি, তাদের দেওয়া একখানি কাপড় পর্য্যন্ত পরে জাসিনি। পেটে যা খেয়েছি, তার চতুগুণ দিয়ে এসেছি—এমনি তাদের সঙ্গে আমার সম্পর্ক। গুণী বলিল, কিন্তু ধারা সতী-লক্ষ্মী তারা নিজেদের স্বামীকে ভালবাসে । বিধবা হলে কিন্তু তার মুখ মনে করে আর বিয়ে করে না । তোমার মার মত তারা মরণকালে ‘স্বামীর কাছে যাচ্ছি’ মনে করে । হেম বলিল, আমাকে তোমরা জোর করে ধরে-বেঁধে বিয়ে দিয়েছিলে । আমি সতী-লক্ষ্মী, তাই মরণ-কালে আমি তোমার কাছে যাচ্ছি, এই কথাই মনে করব । মাচ্ছা গুণীদা, মরে কি তোমার কাছে যেতে পারব ? তাহার কথার মধ্যে জড়ত নাই, দ্বিধা নাই, লজ্জার লেশমাত্র নাই, এ যেন কাহার কথা কে বলিয়া যাইতেছে । তখনকার হেমের সহিত আজিকার হেমের ষেন ংশ্রব নাই । গুণী স্তম্ভিত হইয়ু রহিল । হেম বলিল, বল, তোমার কাছে যেতে পারব কি না ? গুণী বলিল, না। না—কেন ? গুণী কছিল, আমার কর্শের ফল আমাকে কোথায় নিয়ে যাবে, সে জামি জানি না, তোমার কর্মের ফল তোমাকে কোথায় নিয়ে যাবে, সে তুমিও জান না। আমার কৰ্ম্মদোষে হয়ত পণ্ড হয়ে জন্মাব, তুমি হয়ত আবার বামুনের মেয়ে হয়ে জন্মাবে, Հեր",