প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (অষ্টম সম্ভার).djvu/২৯৮

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ DDD DBB SB BB BBB BD S DDDD DD DB DDS BBSBB BBDDD কোনমতেই সত্য হতে পারে না। আমাদের এই কাল্পনিক সম্বন্ধ ত অতি তুচ্ছ। কত ভেদ, কত পার্থক্য, কত উচুনীচু চোখের উপরেই দেখতে পাচ্ছ, এগুলো হয়ত কর্ষের ফল। একে কোন ভালবাসার টানই নিবারণ করে দিতে পারে না । এ সংসারে কত পাযও স্বামীর সতী-সাধী স্ত্রী থাকে, স্বামীট হয়ত মরে গরু হয়ে জন্মায়-এ তোমাদেরই শাস্ত্রের কথা—তুমি কি কামনা কর হেম, সতী-সাধনী স্ত্রী, তার সারাজীবনের স্বকৰ্ম্মের অস্তে এই গরুর সঙ্গে গোয়ালে গিয়ে বাস করে ? সে হয় না। তা হলে ভাল কাজ মন্দ কাজের অর্থ থাকে না। স্ত্রী নিজের কর্শ্বে স্বর্গে যায়, স্বামী হয়ত জন্ম জন্ম নরক ভোগ করে—হাজার কামনা করলেও অার এক হবার উপায় থাকে ? হেম বহুক্ষণ নিস্তব্ধ থাকিয় আস্তে আস্তে বলিল, তবে কি সত্যই আর মেলবার পথ থাকে না ? . . গুণী বলিল, না। তার আবগুকও থাকে না । তার চেয়ে হেম, যে মেলা সবচেয়ে বড় মেলা, যার কাছে যেতে পারলে আর কারো কাছে যেতে হবে না, অথচ সমস্ত রকমের মিলনের ইচ্ছাই আপনা আপনি পরিপূর্ণ হয়ে যাবে, তুমি সেই মিলনের কামনা কর । তোমার পথ থেকে তোমাকে কেউ যেন টেনে নিয়ে না যায় ; আমি কায়মনে আশীৰ্ব্বাদ করি, অামাদের দেওয়া সমস্ত দুঃখ একদিন যেন তোমার সার্থক হয় । চাদের আলোয় হেম দেখিতে পাইল, গুণীর চোখ দিয়া ফোটা ফোটা জল গড়াইয়া পড়িতেছে। সে পায়ের উপর মাথা ঠেকাইয়া প্রণাম করিয়া আস্তে আস্তে উঠিয়া গেল। সে উঠিয়া গেল, এমন অনেকদিনই এমনি করিয়া নিঃশব্দে উঠিয়া গিয়াছে, কিন্তু আজ কেমন করিয়া গুণীর সমস্ত সংযম, সমস্ত ধৈৰ্য্যের বাধ সে সমূলে উৎপাটিত করিয়া দিয়া চলিয়া গিয়াছে । আজ তাহার ধিক্কারের সহিত কেবল মনে হইতে লাগিল, যেন চিরদিনের স্থযোগ অকস্মাৎ চোখের সামনে দিয়া বহিয়া গেল, হাত বাড়াইয়া ধরা হইল না। হেম তাহাকে কত ভালবাসে, এ-কথা সে নিঃসংশয়ে জানিত। আজ তাহার মুখ হইতে স্পষ্ট করিয়া শুনিয়াও, সে কোনমতেই নিজের কথাটা বলিতে পারিল না। স্বলোচনার মৃত্যু হইতে বলি বলি করিয়াছে, বলিতে পারে নাই। কেবলি মনে হইয়াছে, এ যেন কোন বিষধর সপ ঘুমাইয়া আছে, হাত বাড়াইয়া স্পর্শ করিলেই বুঝি ফণা তুলিয়া উঠিয় দাড়াইবে। তাই বরাবর সেই ভয় তাহার হাত চাপিয়া ধরিয়াছে, আজিকার এমন বারেও সেই ভয় তাহাকে হাত বাড়াইতে দিল না । প্রত্যহ গ্রাতঃস্থান করিয়া হেম প্রণাম করিতে আলিত, পরদিন আসিবামাত্রই গুণী সমস্ত সঙ্কোচ প্রাণপণ অতিক্রম করিয়া প্রশ্ন করিল, হেম কাল তুমি বিধবাবিবাহের কথা জিজ্ঞাসা করেছিলে কেন ? ששא