প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (অষ্টম সম্ভার).djvu/৩০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রহ তাহাই করিলেন । মনকে প্রবোধ দিলেন, হয়ত সে ঘাহা বলিতেছে তাঁহাই করিবে ; এ বিপদের সময়ও অন্ততঃ চক্ষু ফুটিবে । কিছুক্ষণ মৌন থাকিয়া কহিলেন, যা ভাল হয় তাই করিসূ—না হলে, অস্থখ-বিমুখ কাচ্চী-বাচ্চ নিয়ে বিপদের সীমা-পরিসীমা থাকবে না । একটা লম্বা-চওড়া উত্তর দিয়া হারাণচন্দ্র আহার শেষ করিয়া গাত্ৰোখান করিলেন । - এইবার মাধবের সহিত সাক্ষাত হইল। সে শুনিয়াছিল পিতা আসিয়াছেন, তাই এতক্ষণ উন্মুখ হইয়া শয্যার উপর বসিয়াছিল। হারাণচন্দ্র নিকটে আসিয়া তাহার গাত্রে হাত বুলাইয়া বলিলেন, কেমন আছ মাধব ? আজ ভাল আছি বাবা ; তুমি এতদিন আসনি কেন ? হারাণচন্দ্র একটা মনোমত উত্তর খুজিতেছিলেন, কিন্তু মাধব সেজন্ত অপেক্ষা করিল না। আবার বলিল, তুমি আমার জন্য ওষুধ আনতে গিয়েছিলে, না ? ওষুধ এনেচ ? হারাণচন্দ্র শুল্কমুখে বলিলেন, এনেচি । ভাল ওষুধ ? খেলেই ভাল হব ? হবে বৈকি ! বালক প্রফুল্ল হইয়া হাত বাড়াইয়া বলিল, দাও । হারাণচন্দ্র বিপদে পড়িলেন। একটু ইতস্ততঃ করিয়া কহিলেন, এখন নয়, রাত্রে থেয়ো । বালক তাহাতেও সন্তুষ্ট । মৃদু হাসিয়া বলিল, বাবা, আমাকে একটা ডালিম কিনে দিও - দেবে ? হারাণচন্দ্র ঘাড় নাড়িয়া বলিলেন, দেব । তাহার পর শুভদা আসিলে তাহাকে কাছে ডাকিয়া বলিলেন, আমাকে আনা-দুই পয়সা দিতে পারো ? কেন ? আমার দরকার আছে—একজনের ধার আছে, সে চাইতে এসেছে ! শুভদা বাক্স খুলিয়া দুই আনা পয়সা বাহির করিল। হারাণচন্দ্র উকি দিয়া দেখিলেন বাক্সে অনেকগুলি পয়সা আছে । হাত পাতিয়া জুই আনা লইয়া বলিলেন, থাকে ত আরো আনা-চারেক পয়সা দাও—মাধবকে একটা বেদানা কিনে দেব । শুভদা কাতরভাবে স্বামীর মুখপানে একবার চাহিল। এতগুলি পয়সা একসঙ্গে বাহির করিয়া দিতে বোধ হয় তাহার ক্লেশ হইতেছিল। তাহার পর বাক্স খুলিয়া বাহির করিয়া দিল । 穹°