প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (অষ্টম সম্ভার).djvu/৩২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রই কোখার পড়ে গেছে। থাকে ত আজ গণ্ডা-চারেক পয়সা ধার দিও, সন্ধ্যার সময় তোমাকে সমস্ত ফিরিয়ে দেব। শুভদা স্নানমুখে বলিল, আর কিছু নেই । হারাণচন্দ্র সহাঙ্গে বলিলেন, তা কি হয় ? তোমার লক্ষ্মীর ভাণ্ডার কখনই ফুরোয় না । শুভদা মনে মনে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের কথা স্মরণ করিল। প্রকাশ্বে বলিল, সত্যি কিছু নেই। কেন থাকবে না ? কাল যে দেখলাম অনেকগুলো পয়সা আর একটা টাকা আছে । শুভদা চুপ করিয়া রহিল। হারাণচন্দ্র আবার বলিলেন, ছিঃ ! আমাকে দুটো পয়সা দিয়ে তোমার বিশ্বাস হয় না ? সমস্ত টাকাটা দিয়ে না-হয় বিশ্বাস না হয়, আনা-চারেক পয়সারও বিশ্বাস । রাখতে হয় । আর আপত্তি করিল না, শুভদা হাত ধুইয়া প্রার্থিত অর্থ বাহির করিয়া দিল । 6. অর্থের সদ্ব্যবহার বটে। হারাণচন্দ্র হলুদপুর গ্রাম পার হইয়া বামুলপাড়ায় আসিলেন । তাহার পর একটা গলিপথ ধরিয়া একটা দরমা-ঘেরা ঘরে প্রবেশ করিলেন। এখানে অনেকগুলি প্রাণী জড় হইয়া এককোণে বসিয়াছিল। হারাণচন্দ্রকে দেখিবামাত্র তাহারা আহলাদে মহা-কলরব করিয়া উঠিল । অনেক প্রীতি-সম্ভাষণ হইল ; কেহ বাবা বলিয়া ডাকিল, কেহ দাদা বলিয়া ডাকিল, কেহ খুঁড়ো, কেহ মামা, কেহ মেসো ইত্যাদি বহুসম্ভাধিত হইয়া মুরুব্বির মত হারাণচন্দ্র তন্মধ্যে স্থান গ্রহণ করিলেন । অনেক কথা চলিতে লাগিল। অনেক রাজা-উজিরেরে মৃগুপাত করা হইল, অনেক লক্ষ মুদ্রা ব্যয় করা হইল । এটা গুলির দোকান। সংসারের একপ্রাস্তে স্মশান, আর অপরপ্রান্তে গুলির দোকান। শ্মশানে মহারাজাও ভিক্ষুকের সমান হইয়া যান, এখানে ভিক্ষুক মহারাজের সমান হইয়া দাড়ান। টানে টানে অহিফেন মগজে যত, জড়াইয়া জড়াইয়া উঠিতে লাগিল, হৃদয়ের মহত্ব, শৌৰ্য্য, ধৈৰ্য্য, গাষ্ঠীর্ধ্য, পাণ্ডিত্য ইত্যাদি একে একে তেমনি ফাপিয়া ফুলিয়া প্রশস্ত হইয়া দাড়াইতে ९२.