প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (অষ্টম সম্ভার).djvu/৩৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শুভদ লাগিল। কত দান, কত প্রতিদান ! মণি, মুক্ত, হীরক, কাঞ্চন, কত রাজ্য, কর্ত রাজকন্যা, টানে টানে অবাধে ভাসিয়া চলিতে লাগিল ৷ একধারের এত রত্ন, জগতের তাবৎ বাস্থত বস্তু, অৰ্দ্ধ আলোকে, অৰ্দ্ধ আঁধারে, দরমার ঘরে, ভূতলে সে ইন্দ্রসভা আমি বর্ণনা করিতে পারিব না ক্রমে সন্ধ্যা হইয়া আসিতেছে দেখিয়া অনেকগুলি কালিদাস, অনেকগুলি দিল্লীর বাদশাহ, অনেকগুলি নবাব সিরাজদ্দৌলা, অনেকগুলি মিঞা তানসেন একে একে বাপ খুলিয়া বাহিরে আপিতে লাগিলেন। জগতের নীচ লোকের সহিত র্তাহারা মিশিতে পারেন না, কথাবার্তা আলাপ-পরিচয় করা শোভা পায় না, কাজেই তাহার রাস্তার একপাশ ধরিয়া নি:শঙ্কে স্ব স্ব প্রাসাদ অভিমুখে প্রস্থান করিলেন । হারাণচন্দ্রও র্তাহীদের মত বাহিরে অসিলেন ; কিন্তু বাহিরে অসিয়া উহার একটু বিভ্ৰাট ঘটিল। কোথা হইতে সেই হতভাগ্য পীড়িত মাধবের মুখখানা মনে পড়িয়া গেল, সঙ্গে সঙ্গে বেদানার কথাটাও স্মরণ হইল। অপর সকলের মত তিনিও অবগু কোন একটা বিশেষ উচ্চপদ লাভ করিয়া বাইরে আসিয়াছিলেন, কিন্তু মুখপোড়া ছোড়ার মুখখানা সে-রাজ্যে বিষম বিশৃঙ্খলা ঘটাইয়া দিল । দিল্লীর বাদশ পকেটে হাত দিয়া দেখিলেন রাজকোষ প্রায় শূন্ত । অতবড় সম্রাটের চারিটি পয়সা ও একটি গাজার কলিকা ভিন্ন আর কিছুই নাই। বহুৎ আচ্ছ!! তাহাই সহায় করিয়া তিনি নিকটবর্তী একটা গঞ্জিকার দোকানে প্রবেশ করিলেন। অধিকারীকে মিষ্ট সম্ভাষণে আপ্যায়িত করিয়া কহিলেন, খুড়ো, চার পয়সার তামাক দাও ত । অধিকারী সে আজ্ঞা সত্বর সম্পাদন করিল। হারাণচন্দ্র তখন মনোমত এটা বৃক্ষতল অন্বেষণ করিয়া লইয়া গঞ্জিকা-সাহায্যে বিশৃঙ্খল রাজত্ব পুনরায় শৃঙ্খলিত করিয়া লইলেন। সমস্ত কৰ্ম্ম সম্পন্ন হইলে রাত্রি অনেক হইতেছে দেখিয়া বৃক্ষতল পরিত্যাগ করিয়া উঠিলেন । অনেকদূর গিয়া একটা খোড়ে। বাড়ির সম্মুখের দ্বারে আঘাত করিয়া ভাকিলেন, কাত্যায়নী ! কেহ উত্তর দিল ন । আবার ডাকিলেন, বলি কাতু বাড়ি মাছ কি ? তথাপি উত্তর নাই । বিরক্ত হইয়া হারাণচন্দ্র চীংকার করিয়া ডাকিলেন, বলি বাড়ি থাক ত দরজাট একবার খুলে দিয়ে যাও না ! এবার অতি ক্ষীণকণ্ঠে জবাব আসিল, কে ? অামি—আমি । আমার বড় শরীর খারাপ—উঠতে পারব না । ኧo