প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (অষ্টম সম্ভার).djvu/৩৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


তা হবে না । উঠে খুলে দাও । এবার একজন পঞ্চবিংশতি-বর্মীয়া কাল-কাল মোটা-সোটা সৰ্ব্বাঙ্গে উদ্ধি-পর মানানসই যুবতী যন্ত্রণাচক শব্দ করিতে করিতে আসিয়া খটু করিয়া দ্বার মোচন করিল। উঃ মরি—যে পেটে ব্যথা ! অত ধড়ি-চেঁচাচ্চ কেন ? চেঁচাই কি সাধে ? দোর না খুললেই চেঁচামেচি করতে হয় । যুবতী বিরক্ত হইল—না বাবু, অত আমার সইবে না! আসতে হয় একটু সকাল সকাল এসো। রাত্তির নেই, দুপুর নেই, যখন-তখন যে অমনি করে চেঁচাবে তা হবে না, অত গোলমাল আমার ভাল লাগে না ! হারাণচন্দ্র ভিতরে প্রবেশ করিয়া অর্গল বন্ধ করিলেন । তাহার পর কাত্যায়নীর পানে চাহিয়া বলিলেন, আহা ! পেটে ব্যথা হয়েছে, তা ত আমি জানিনে । তুমি কেমন করে জানবে ? জানে পাড়ার পাঁচজন । কাল থেকে এখন পর্য্যস্ত পেটে একবিন্দু জল যায়নি! তা এত রাত্তিরে কেন ? একটু কাজ আছে। কাজ আবার কি ? বলছি । তামাক সাজ দেখি । রমণী বিষম ক্রুদ্ধ হইয়া হাত দিয়া ঘরের একটি কোণ দেখাইয়া বলিল, ঐ কোণে সব আছে । তামাক খেতে হয় নিজে সেজে খাও না, আমাকে আর জালাতন ক’রো না—আমি একটু শুই । হারাণচন্দ্র অপ্রতিভভাবে কহিল, না তোমাকে বলিনি—আমার মনে ছিল না, তুমি শুয়ে থাক, আমিই সেজে নিচ্চি। তখন তামাক সাজিয়া ছক হস্তে হারাণচন্দ্র কাত্যায়নীর পার্থে শয্যায় আসিয়া উপবেশন করিলেন । অনেকক্ষণ তামাক সেবন করিবার পর ধীরে ধীরে—অতি ধীরে, বড় মৃদ্ধ–পাছে গলার স্বর কর্কশ শুনায়, কহিলেন, কাতু, আজ আমাকে গোটা-দুই টাকা দিতে হবে । কাত্যায়নী কথা কহিল না । বলি শুনলে ? ফুলে কি ? আজ আমাকে দুটাে টাকা দিতেই হবে। কাত্যায়নী পার্শ্ব পরিবর্তন করিল, কিন্তু কথা কহিল না । হারাণচন্দ্র একটু সাহস পাইলেন। হকাটি যথাস্থানে রাখিয়া দিয়া তাহার গায়ে হাত দিয়া বলিলেন, দেবে ত ? কাত্যায়নী কথা কহিল, মিছে ভ্যান ভ্যান কয়চ কেন ? কোথা থেকে দেব ? কেন, তোমার নেই কি ?