প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (অষ্টম সম্ভার).djvu/৩৬

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ পর ধীরে ধীরে মুখ তুলিয়া বলিতে লাগিলেন, তাই হবে। এখানে আর জাসব না। তোমার জন্তে আমার সব হ’ল ; তোমার জন্যে আমি চোর, তোমার জন্তে আমি লম্পট, তোমার জন্যে আমি স্ত্রী-পুত্ৰ দেখি না, শেষে তুমিই— হারাণচন্দ্র কিছুক্ষণ নীরব থাকিয়া আবার বলিলেন, আজ আমার চোখ ফুটলো— এবার কাত্যায়নী ও নরম হইল। একটু সরিয়া বসিয়া বলিল, ঠাকুর করুন তোমার যেন চোখ ফোটে । আমরা ছোটলোকের মেয়ে, ছোটলোক-কিন্তু এটা বুঝি যে, আগে স্ত্রী-পুত্র বাড়ি-ঘর, তার পর আমরা ; আগে পেটের ভাত, পরবার কাপড়, তার পর সখ, নেশা-ভঙে তোমার আমি অহিত চাইনে, ভালর জন্যই বলি—এখানে আর এসো না, গুলির দোকানে আর ঢুকো না—বাড়ি যাও ঘরবাড়ি স্ত্রী-পুত্র দেখ গে, একটা চাকরী কর, ছেলেমেয়ের মুখে দুটা অন্ন দাও, তারপর প্রবৃত্তি হয় এখানে এসে । * কাত্যায়নী শয্য হইতে উঠিয়া বাক্স খুলিয়া দশটি টাকা বাহির করিয়া হারাণচন্দ্রের সম্মুখে রাখিয়া বলিল, এই নিয়ে যাও— হারাণচন্দ্র বহুক্ষণ অধোবদনে নিরুত্তরে বসিয়া রহিল, তাহার পর ঘাড় নাড়িয়া বলিল, আমার দরকার নেই। - কাত্যায়নী অল্প হাসিল ; হাত দিয়া হারাণের মুখখান তুলিয়া বলিল, যে কিছু জানে না তার কাছে অতিমান ক’রে -এ না নিয়ে গেলে কাল তোমাদের সবাইকে উপুল করতে হবে তা জান ? কেন ? তোমাদের যে কিছু নেই । কেমন করে জানলে ? এইমাত্র তুমি যে নিজেই বললে—ছেলের মুখের খাবার কেড়ে খেয়েচ। \S:-- শুধু তাই নয়! তুমি এত কথা না বললেও আমি আগে থেকেই সমস্ত জানি। নিজে তোমাদের বাড়ি গিয়ে সব দেখে এসেচি । কেন ? প্রথমতঃ মেয়েমানুষের এসব আপনিই দেখতে ইচ্ছা হয়, তার পর সব দেখে-শুনে আট-ঘাট না বেঁধে চললে আমাদের চলে না। তোমরা যত বোকা, মেয়েমাহৰ হলেও আমরা তত বোকা নই। তোমাদের স্ত্রী আছে, পুত্র আছে, আত্মীয় আছে, বন্ধু আছে, একবার ঠকলে আর একবার উঠতে পায়, কিন্তু আমাদের কেউ নেই— একবার পড়ে গেলে আর উঠতে পারব না, আমরা না খেতে পেয়ে মরে গেলেও ফারো দয়া হবে না। লোকে বলে, “যার কেউ নেই, তার ভগবান আছেন", ఇఆ