প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (অষ্টম সম্ভার).djvu/৪০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


속 হারাণচন্দ্র যখন স্ত্রীর হস্তে পুরাপুরি দশটা টাকা গুনিয়া দিলেন তখন শুভদার মুখের হাসি ফুটিয়াও ফুটিতে পাইল না, বরং মান হইয় নতমুখে জিজ্ঞাসা করিল, এ টাকা কোথায় পেলে ? সেও সে টাকা হাসিয়া দিতে পারে নাই । কিছুক্ষণ নিরুত্তরে থাকিয়া বলিল, শুভদা, তোমার কি মনে হয় এ টাকা আমি চুরি করে এনেছি ? শুভদ আর ও মলিন হইয়া গেল । তাহার পাপ অন্তঃকরণে একথা হয়ত একবার উদয় হইয়াছিল, কিন্তু তাহা কি বলা যায় ? ঈশ্বর না করুন, কিন্তু যদি তাহাই হয়, তাহা হইলে ইহা কি লওয়া উচিত ? চুরি করা ধন খাইবার পূৰ্ব্বে সে অনাহারে মরিতে পারে, কিন্তু আর সকলে ? প্রাণাধিক পুত্রকন্যারা ? শুভদ বুঝিল, একথা আলোচনা করিবার এখন সময় নহে, তাই টাকা দশটি বাক্সে বন্ধ করিয়া রাখিল । - কতক মুখে-স্বচ্ছন্দে আবার দিন কাটিতে লাগিল । হারাণ মুখুয্যেকে এখন আর বড় একটা হলুদপুরে দেখিতে পাওয়া যায় না । বাটী আসিলে রাসমণি যদি জিজ্ঞাসা করেন, তুই সমস্তদিন কোথায় থাকিস রে ? হারাণ বলেন, আমার কত কাজ, চাকরির চেষ্টায় ঘুরে বেড়াই । শুভদাও মনে করে তাই সম্ভব, কেন না আর সে পয়সা চাহিতে আসে না, কাল শোধ করিয়া দিব বলিয়া অীর দুই আনা, চারি অনা, ধার করিয়া লইয়া যায় না । সে কোথায় থাকে আমাকে জিজ্ঞাসা করিলে বলিতে পারিব, কেন না আমি তাহ জানি । সে সমস্তদিন অনীহারে অবিশ্রাম চাকরির উমেদারি করিয়া বেড়ায় । কত লোকের কাছে গিয়া দুঃখের কাহিনী কহে, কত আড়তদারের নিকট এমন কি সামান্য দোকানদারদিগের নিকটও খাতপত্র লিথিয়া দিবে বলিয়া কৰ্ম্ম প্রার্থনা করে, কিন্তু কোথাও কিছু করিয়া উঠিতে পারে না। সে অঞ্চলে অনেকেই তাহাকে চিনিত ; সেইজন্য কেহই বিশ্বাস করিয়া রাখিতে চাহে না । সন্ধ্যার সময় হারণচন্দ্র শুল্কমুখে বাটী ফিরিয়া আসেন ; শুভদা মানমুখে জিজ্ঞাসা করে, আজ কোথায় খেলে ? হারাণচন্দ্র স্ত্রীর কথায় হাসিবার চেষ্টা করেন ; বলেন, আমার খাবার অভাব কি ? কে আমাকে না জানে ? - শুভদা আর কথা কহে না, চুপ করিয়া থাকে। ক্রমশঃ তাহার কলসীর জল শুকাইয়া আসিতেছে, টাকা ফুরাইয়া আসিতেছে ; we