প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (অষ্টম সম্ভার).djvu/৫৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শুভদা সে আজ বড় বিস্থিত হইল, বহুদিন হইতে এরূপ কখন হয় নাই। বহুদিন হইল তিনি এরূপ স্বেচ্ছায় শুভদার হাতে টাকা দিতে আসেন নাই । আহারাদি শেষ হইলে শুভদা বলিল, টাকা পেলে কোথায় ? আজ হারাণচন্দ্রের মুখ ফুটিয়া হাসি বাহির হইল। বলিলেন, ওগো, আমাদের টাকার জন্য ভাবতে হয় না । পুরুষমানুষের পেটে যদি বুদ্ধি থাকে ত তার কাছে সমস্ত পৃথিবীটায় টাকা ছড়ান থাকে। বুঝেছ ? শুভদা কি বুঝিল সে-ই জানে, কিন্তু প্রতিবাদ করিল না। উপরোক্ত ঘটনার পরে প্রায় দুইমাস কাল অতিবাহিত হইয়া গিয়াছে। আজ সন্ধ্যার সময় শুভদা ললনার কাছে বসিয়া নিতান্ত মলিন হইয়া বলিল, ললনা মা, আজ কি কিছু নেই ? কিছুই নেই মা । . কতদিন ও-কথা তুই বলেচিস, কিন্তু তার পরেই দু’আনা চার আনা বের করে দিয়েচিল, দ্যাখ মা, যদি কিছু থাকে, না হলে আঙ্গ রাতে জলবিন্দুও কারো মুখে যাবে না । জননীর কাতর মুখ ও অশ্রজড়িত গদগদ স্বর শুনিয়া ললনা কাদিয়া ফেলিল—কিছুই নেই মা ! তোমার পা ছয়ে বলচি, কিছু নেই। তখন দুইজনেই কঁদিতে লাগিল । কন্যাকে অনেকটা অবিশ্বাস করার মত হইয়াছে বলিয়া শুভদা কঁদিতে লাগিলেন, কিন্তু, ললনার অশ্র অন্য কারণে বহিতে লাগিল । সে কিছু নাই বলিয়াও ইহার পূৰ্ব্বে দিতে পারিয়াছিল, কিন্তু আজ বাস্তবিকই কিছু দিতে পারিল না । সদানন্দ-প্রদত্ত পঞ্চাশখ মুদ্রার শেষ বিন্দুটি আজ প্রাতঃকালে নিঃশেষে ব্যয় হইয়া গিয়াছে। সকলে কি খাইবে, কেমন করিয়া রাত্রি কাটিবে, না খাইতে দিতে পারিয়া জননীর মন কেমন হইবে, প্রাতঃকালে আবার কাহার নিকট ভিক্ষা করিতে যাইতে হইবে, এই সব ভাবিয়া তাহার চক্ষে জল আসিয়া পড়িল । বিন্দু ছিল, সে এখন নাই, সদানন্দ ছিল, সেও এখানে নাই। শুধু কি তাই ? আঙ্গ দুইদিন হইতে হারাণচন্দ্রেরও দেখা নাই। সম্ভবতঃ গুলির দোকালে, না হয় জুয়ার আড্ডায় ! এখানে একটু হারাণচন্দ্রের কথা বলি, তিনি গাজা টিপিতেন, গুলি খাইতেন, ছয় পয়সা চারি পয়সা কর্জ করিতেন, দুই আনা চরি আনা শুভদার নিকট মিথ্যা কথা কহিয়া আদায় করিতেন, নিতান্ত দায়ে পড়িলে ফোটা কাটিয়া গাময় ছাইভন্ম মাথিয়া ব্রাহ্মণ-সপ্তানের শেষ বৃত্তি-ভিক্ষা ব্যবসায় অবলম্বন করিতেন, কিন্তু জুয়ার ধৰ্ম্ম বিশেষ অবগত ছিলেন না। এখন এইটি হুইয়াছে। জুয়া-খেলার প্রথম অংশে যেরূপ হয়, অর্থাৎ দুই-চারি পয়সা পাওয়া যায়, দুই-চারি টাকা লাত হয়-তাহারও go