প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (অষ্টম সম্ভার).djvu/৬০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ হারানচক্সের বোধ হইল ছলনাময়ী যেন তাহার মাখাটা কাটিয়া লইয়াছে । হাতের জুতা আপনা-আপনি খসিয়া নীচে পড়িয়া গেল ; থতমত খাইয়া অনেকক্ষণ দাড়াইয়া থাকিয়া বলিলেন, সত্যি তাই কি ? ছলনা আরও চীংকার করিয়া ডাকিল, ও পিসিমা, শুনচ বাবার কথা ? আমি যেন মিথ্যে কথা বলচি ? কাল সমস্ত রাত মা আর বড়দিদি কেঁদেচে–তুমি তা কেমন করে জানবে বল ? শুধু খেতে আসা বৈ ত আমাদের সঙ্গে তোমার কোন সম্পর্ক নেই! হারাণচন্দ্র আর দাড়াইয়া থাকিতে পারিলেন না, জুতা-জোড়াটি হাতে তুলিয়া দ্রুতপদে প্রস্থান করিলেন । ছলনা আর একবার চীৎকার করিয়া উঠিল, ওগো বাবা পালিয়ে গেল। ছলনা ছেলেমাঙ্গুষ, বুদ্ধি কম, তাহার উপর বিষম দুমুখ। কাহাকে কি বলিতে হয়, কখন কি বলিতে হয়, সে কখনও শিখে নাই। ললনা এতক্ষণ অন্তরালে দাড়াইয়া সব কথা শুনিতেছিল । পিতা চলিয়া গেলে সে ধীরে ধীরে ছলনার সম্মুখে আসিয়া বলিল, ছলনা ! তোমার একটুও কি বুদ্ধি নেই ? কেন ? কাকে কি বলতে হয় এখনো কি শেখনি ? বাবাকে অমন করে কি বাক্যযন্ত্রণা দিয়ে তাড়িয়ে দিতে হয় ? ছলনা কুপিত হইয়া কহিল, আমি তাড়িয়ে দিলাম, না আপনি পালিয়ে গেল । ছিঃ ! বাপকে কি ও-কথা বলতে আছে ? কেন বলতে নেই ? বাপের মত বাপ হলে তাকে কিছু বলতে নেই, কিন্তু অমন ধারা বাপকে সব বলতে আছে । কার বাপ অমন ক’রে দৌড়ে পালিয়ে যায় ? কার বাপ অমন করে গাজা-গুলি খেয়ে বাইরে পড়ে থাকে ? আমি খুব বলব—আরো বলব । ললনা বিরক্ত হইয়া বলিল, এখান থেকে তুই চলে যা । আমি কেন চলে যাব, তুই চলে যা । তুই আমার উপর গিন্নিপন করতে আসিস নে । r হার মানিয়া ললনা মৌনমুখে সে-স্থান পরিত্যাগ করিয়া চলিয়া গেল । YY সেইদিন বেলা দ্বিপ্রহর অতীত হইলে, শুভদা রাসমণির কাছে এটা কাংস্তপাত্র রাখিয়া বলিল, ঠাকুরঝি, বেলা অনেক হ’ল ; আজ তিনি বোধ হয় আর আসবেন না। এই ঘাটটা বাধা দিয়ে দেখ না যদি কিছু পাওয়া যায়। ( e.