প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (অষ্টম সম্ভার).djvu/৮৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শুভদ জয়াবতী কথার তাবটা বুঝিতে পারিল। স্ত্রীলোকে এ-সময়ে হিংসা রাখে ন—তাই একটু হাসিয়া বলিল, তা হলে আমরা তোমাকে জলে ফেলে দেবো। মালতীও একটু হাসিল, কিন্তু সে-হাসিতে এ-হাসিতে একটু প্রভেদ ছিল। বলিল, হ’লে ভাল হ’তো দিদি । জয়াবতী অপ্রতিত হইল। কথাটার যে আরো একটু অন্তরূপ মানে হইতে পারে তাহা সে ততটা ভাবিয়া বলে নাই, বলিল, ছিঃ ! ও-কথা কি বলে ? মালতী চুপ করিয়া রহিল, আর উত্তর করিল না। নিঃশব্দে সে ভাবিয়া দেখিতেছিল যে, জয়াবতীর কথা সত্য হইলে কেমন হয় ? ভাল হয় কি ? হয় না । মরিতে তাহার সাধ নাই, তাহাকে ভাল করিয়া জিজ্ঞাসা করিলে বলিবে যে, সে মরণের অধিক ক্লেশ পাইতেছে, তথাপি মরিতে পারিবে না ; মরণে ভয় নাই, তথাপি মরিবার ইচ্ছা নাই । যাহারা সে ইচ্ছা করিতে পারে, তাহদের দুঃখ তত অধিক নয় । একবিন্দু জল তাহার চক্ষু দিয়া গড়াইয়া পড়িল । .٤ ھ জয়াবতী সস্নেহে তাহা মুছাইয়া বলিল, ভাব কেন বোন ? পূবে বাতাস লেগে একটু গা গরম হয়েচে, তাই বলে ভাবত হয় ? তাহার পর একটু চিন্তা করিয়া সাবধান হইয়া বলিল, আর যদি তেমন হয় তা হলেও ত উপায় আছে, কাছেই কলকাতা—সেখানে ডাক্তার-বন্দির অভাব কি ? অভাব কিছুরই ছিল না এবং প্রয়োজনও কিছুই হইল না। বজরা যেদিন কলিকাতা আসিয়া পৌছিল সেদিন মালতীর আর জর ছিল না, কিন্তু শরীর বড় দুৰ্ব্বল, এখনো কিছুই খাইতে পায় নাই। বজরা কলিকাতা ছাড়াইয়া একটু দূরে— পরপারে নোঙ্গর করা হইল। কামরার জানালা খোলা ছিল, মুখ বাড়াইয়া মালতী জাহাজ, মাস্তল, বড় বড় নৌকা ও প্রাসাদতুল্য প্রকাও অট্টাপিক-শ্রেণীর চুড়া দেখিতে লাগিল। মালতীর ভয় হইতেছিল ; ভাবিতেছিল এই কি কলিকাতা ? তাহা হইলে এত গণ্ডগোল এত শব্দ-সাড়ার মধ্যে কে কাহার কথা শুনিতে পাইবে ? এত ব্যস্ত সহরে কে তাহাকে দেখবার অবকাশ পাইবে ? কিন্তু তাহা ত হইবে না, তাহাকে যাইতে হইবে । যেজন্য এ অসমসাহসিক কাজ করিয়া ফেলিয়াছে, যাহাদের মুখ মনে করিয়া নরকে ডুব দিতে বসিয়াছে—ইহকাল পরকাল কোন কথাই মনে স্থান দেয় নাই, তাহাদের মুখ এত শীঘ্র ঙুলিতে পরিবে না। আজ না হয় কাল এ আশ্রয় পরিত্যাগ করিতেই হইবে ; আর যখন হইবেই তখন আর ভয় করিয়া লাভ কি ? সে যাইতে কৃতসঙ্কল্প হইল, কিন্তু স্বরেক্সবাবু প্রচার করিলেন যে, বজরা এস্থানে আরও তিন-চারিদিন বাধা থাকিবে । মালতীর শরীর রীতিমত স্বস্থ হইলে তবে সে যেখানে ইচ্ছা যাইবে ; বজরা সেইসময়ে খোলা হইবে । মালতী একথা শুনিয়া মনে মনে তাহাকে সহস্র ধন্যবাদ দিল । আন্তরিক সে ইহাই প্রার্থনা করিতেছিল ; ማሕ