প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (অষ্টম সম্ভার).djvu/৯৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ তাহা দেখিলেন না ; একবারমাত্র চাহিলেন, তাহার পর চক্ষু মুদ্রিত করিয়া রহিলেন । অনেকক্ষণ এইভাবে থাকিয়া দীর্ঘশ্বাস মোচন করিয়া বলিলেন, জয়ার কোন সংবাদ পাওয়া যায় নাই । নিকটে একজন পুরাতন ভূত্য বসিয়াছিল, সে কাতরভাবে কহিল, না । পাওয়া যায় নাই ? তবে বোধ হয় সে আর বেঁচে নাই । তৃত্য ভাবিয়া চিন্তিয়া বলিল, বোধ হয়। স্বরেন্দ্রনাথ জিজ্ঞাসা করিলেন, রাত্রি কত হয়েছে ? প্রায় দশটা ৷ . . দশটা ? তবু সংবাদ নাই ? ভৃত্য উত্তর দিল, না । স্বরেন্দ্রবাবু অধিকতর হতাশ হইয়া কপালে করাঘাত করিলেন, বলিলেন, তোমরা সবাই যাও—সমস্ত সহরে সমস্ত গঙ্গার ধারে সন্ধান কর গে ! তৃত্য মনে মনে ভাবিল, মন্দ হুকুম নয় ; মুখে বলিল, যে আজো ; পরে তথা হইতে উঠিয়া আসিয়া আপনার নির্দিষ্ট শয্যায় শয়ন করিয়া রহিল। কক্ষে মালতী ভিন্ন আর কেহ নাই, কিন্তু স্বরেন্দ্রনাথ কথা কহিলেন না, নিঃশব্দে অজস্র রোদন করিতে লাগিলেন । এইভাবে সময় অতিবাহিত হইয়া চলিতে লাগিল । কামরার দেয়ালে যে ঘড়িটা ছিল সেটা আপনার মনে এগারটার পরে বারটা, তাহার পর একট, দুইটা, তিনটা, চারিটা—তাহার পুজিপাট সমস্ত বাজাইয়া চলিতে লাগিল, কিন্তু কেহই তাহা লক্ষ্য করিতেছে বলিয়া বোধ হইল না। সুরেন্দ্রনাথ এ-পাশ ও-পাশ লক্ষ্য করিতে লাগিলেন, মালতী পাশে বসিয়া তাহার যন্ত্রণ দেখিতে লাগিল, আর চক্ষু মুছতে লাগিল, তাহারও কষ্ট হইয়াছে, লজ্জা হইয়াছে এবং ততোধিক নিজের উপর ঘৃণা হইয়াছে। ভূত ভবিষ্যৎ বর্তমান সে ভাবিয়া দেখিতেছিল । একে ত কলিকাতার গঙ্গা সমস্ত রাত্রিই প্রায় নিদ্রা যান না, এখন আবার চারিটা বাজিয়া গিয়াছে—চতুষ্পার্শ্বে অল্প ঈষৎ বেশ সাড়াশক হইতেছে। স্বরেন্দ্রনাথ হঠাৎ উঠিয়া বসিয়া মালতীর পানে চাহিয়া রহিলেন, কিছুক্ষণ পরে বলিলেন, সমস্ত রাত্রি মিথ্যে জেগে কোন ফল নাই, তুমি-শোও গে। মালতী উঠিয়া যাইতেছিল, তিনি আবার ডাকিয়া বলিলেন, ব'স, যেয়ে না, তোমাকে কিছু বলব । - মালতী দুই পদ অগ্রসর হইয়াছিল, পুনরায় সেইখানেই উপবেশন করিল। স্বরেন্দ্রনাথ একবার চক্ষু রগড়াইলেন, একবার কি বলিবেন তাহা যেন 切*8