প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (একাদশ সম্ভার).djvu/১০৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


চরিত্রহীন সবটা জেনে যাও । আচ্ছ, ঐ ওখানে বসে সমস্ত খুলে বলটি, বলিয়া ভাক্তারের হাতব্যাগটা লইয়া নিজে মেঝের উপর রাখিয়া দিল এবং হাত দিয়া চৌকি দেখাইয়া দিয়া বলিল, রাধতে হবে, বেশী সময় নেই, সংক্ষেপে বলচি— এমন সময়ে ঝি আসিয়া সংবাদ দিল, দুজন বাবু আসচে। সেই সঙ্গেই নীচে জুতার শব্দ শুনিয়া কিরণময়ী ব্যাধ-ভয়ে ভীত হরিণীর স্থায় ঝিকে সবেগে ঠেলিয়া দিয়া ঘর হইতে ছুটিয়া পলাইয়া গেল। ডাক্তার ও ঝি আশ্চৰ্য্য হইয়া পরস্পরের মুখের দিকে চাহিয়া রহিল । অনতিকাল পরেই জুতার শব্দ দ্বারের কাছে আসিয়া থামিল। ডাক্তার দেখিল দুটি অপরিচিত ভদ্রলোক। ভদ্রলোক দুটি দেখিলেন, ডাক্তার। তাহার কোটের পকেট হইতে বুক-পরীক্ষার চোঙাটা গলা বাড়াইয়া পরিচয় জানাইয়া দিল । উপেন্দ্র সতীশ দেখিলেন ডাক্তারের মুখ অতিশয় শুষ্ক। দুর্ঘটনা আশঙ্কা করিয়া জিজ্ঞাসা করিলেন, কেমন দেখলেন ডাক্তারবাবু। ডাক্তার নীরব । মুখ তাহার আরো কালি হইয়া গেল । উপেন্দ্র অধিকতর শঙ্কিত হইয়া প্রশ্ন করিলেন, এখন কি রকম দেখলেন ? তথাপি ডাক্তার কথা কহিল না, বিহুবলের মত চাহিয়া রহিল। কি কহিল, তুমি যাও না ডাক্তারবাবু, এখনো দাড়িয়ে আছ কেন ? ডাক্তার ব্যস্ত হইয়া ব্যাগটা তুলিয়া বলিল, আমি যাই, অনেক কাজ আছে আমার, বলিয়াই উপেন্দ্র সতীশের মাঝখান দিয়া দ্রুতপদে নীচে নামিয়া গেল। এবং এই মহাজনের পদাঙ্ক অমুসরণ করিয়া ঝিটি যে কোথায় মিলাইয়া গেল তাহা জানাও গেল না । সেই নিস্তব্ধ ভাঙ্গা বাড়ির ভাঙ্গ বারান্দার উপর বেলা নটার সময়ে উপেন্দ্র সতীশ নিৰ্ব্বাক-বিস্ময়ে উভয়ে উভয়ের মুখপানে চাহিয়া বহিলেন। কিছুক্ষণ পরে সতীশ বলিল, উপনদী, হারানবাবুর মা কি পাগল ? উপেন্দ্র বলিলেন, ও হারানদার মা নয়, আর কেউ-বোধ করি ঝি । কিন্তু আমি ভাবচি, ডাক্তার ও-রকম করে গেল কেন ? সতীশ বলিল, ঠিক চোরের মত যেন ধরা পড়বার ভয়ে পালিয়ে গেল । উপেন্দ্র অন্তমনষ্কভাবে বলিলেন, প্রায়। কাউকে ত দেখা যায় না, ঐ ঘর হারানদার না ? - সতীশ বলিল, হ্যা, যাই চল । কিন্তু হঠাৎ ঢুকতে সাহস হয় না। আমার ভয় হচ্চে হয়ত কিছু ঘটেছে। সতীশ কহিল, সে হলে চীৎকার করবার লোক জুটত—তা নয়। e @>