প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (একাদশ সম্ভার).djvu/১২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ উপেন্ধর দৃষ্টি এই পলাতকের উপর পড়িবামাত্র উচ্চৈঃস্বরে ডাকিয়া উঠিলেন, সতীশ, চুপি চুপি পালিয়ে যাচ্ছিল যে ! এদিকে আয়—এদিকে আয়। ধরা পড়িয়া সতীশ ভাগ্ৰতিভভাবে কাছে আসিয়া দাড়াইল। উপেন্দ্র জিজ্ঞাসা করিলেন, এতদিন দেখিনি যে ? অপ্রতিত ভাবটা সারিয়া লইয়া সতীশ হাসিমুখে বলিল, এতদিন এখানে ছিলাম না উপনদী, এলাহাবাদে কাকার কাছে গিয়েছিলাম। কথাটা ভাল করিয়া শেষ না হইতেই একজন ছাটা-দড়ি টেরি-চশমাধারী যুবক চোখ টিপিয়া দাত বাহির করিয়া বলিয়া বসিল, মনের দুঃখে নাকি সতীশ ? এণ্টান্স পরীক্ষায় এবারেও তাহীকে পাঠান হয় নাই এ সংবাদ সকলেই জানিত, তাই কথাটা এমন বেয়াড় বিত্ৰ শুনাইল যে, উপস্থিত সকলেই লজ্জায় মূখ নত করিয়া মনে মনে ছি ছি করিতে লাগিল। যুবকটির পরিহাস ও দাতের হাসি কোথাও আশ্রয় না পাইয়া তখনি মিলাইয়া গেল বটে, কিন্তু সতীশ তাহার হাসিমুখ লইয়া বলিল, ভূপতিবাবু, মন থাকলেই মনে দুঃখ হয়। পাশ করার আশাই বলুন আর ইচ্ছেই বলুন, আমার ভাল করে জ্ঞান হবার পর থেকেই ছেড়েচি। শুধু বাবা ছাড়তে পারেননি। তাই, মনের দুঃখে কাউকে দেশান্তরী হতে হলে তার হওয়াই উচিত ছিল ; অথচ তিনি দিব্যি অটল হয়ে তার ওকালতি করে গেলেন। কিন্তু যা বল উপীনদী, এবারে তারও চোখ ফুটেচে। সকলেই হাসিয়া উঠিল। হাসির কথা ইহাতে ছিল না, কিন্তু ভূপতিবাবুর অভদ্র পরিহাস যে সতীশকে ক্ষুন্ন করিতে পারে নাই, ইহাতে সকলে অত্যন্ত তৃপ্তি লোধ করিল। উপেন্দ্র প্রশ্ন করিল, এবারে তা হলে তুই ছেড়ে দিলি ? সতীশ বলিল, আমি কি কোনদিন ধরেছিলাম যে আজ ছেড়ে দেব ? আমি কোনদিন ধরিনি উপীনদী, লেখাপড়া আমাকে ধরেছিল। এবারে আমি আত্মরক্ষা করব । এমন দেশে গিয়ে বাস করব যেখানে পাঠশালাটি পর্য্যন্ত নেই। উপেন্দ্র বলিলেন, কিন্তু কিছু করা ত দরকার। মাহুষে একেবারে চুপ করে থাকতেও পারে না, পারা উচিতও নয় । সতীশ বলিল, না, চুপ করে থাকব না। এলাহাবাদ থেকে একটা নূতন মতলব পেয়ে এসেচি। একবার ভাল করে চেষ্টা করে দেখব সেটার কি করতে পারি। : BBBB BBBBB BSBB BB B BBBBB BBBB BDDS DDD BBBS B সলজ-হাস্তে বলিল, আমাদের গায়ে যেমন ম্যালেরিয়া, তেমনি ওই উঠ, । পাচসাতটা গ্রামের মধ্যে সময়ে হয়ত একজনও ডাক্তার পাওয়া যায় না। আমি