প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (একাদশ সম্ভার).djvu/১২৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ কিরণ কিছুমাত্র উদ্বেগ প্রকাশ না করিয়া আস্তে আস্তে বলিল, আমারও কাজ আছে মা, খাবার তৈরী— অঘোরময়ী অকস্মাৎ আগুন হুইয়া উঠিলেন—খাবার ত পালিয়ে যাচ্ছে না বাছা ! তুমি কিছুই বোঝ না কেন গা ? যে না হলে— কিরণ উঠিয়া দাড়াইয়া বলিল, আমার বুঝে ও কাজ নেই। আমাদের আপনার লোক সবাই গেলেও যদি আমাদের দিন চলে ত উপীনবাবু না থাকলেও আটকাবে না । —বলিয়া রান্নাঘরের দিকে চলিয়া গেল । অঘোরময়ী ক্রোধে কথা কহিতে পারিলেন না ; এবং যতক্ষণ বধূকে দেখা গেল, ততক্ষণ র্তাহার জলন্ত চোখ দুটো আগুন ছড়াইয়া তাহাকে যেন ঠেলিয়া বিদায় করিয়া দিয়া আসিল । তারপর তিনি অত্যন্ত ক্রোধের সহিত বিকে পুনঃ পুন: ডাকাডাকি করিতে লাগিলেন । তাহারও সাড়া পাওয়া গেল না । সে শীতের ভয়ে সন্ধ্যার পূৰ্ব্বেই খন খন ঝন ঝন শব্দ করিয়া মাজা-ধোয়া সারিয়া লইতেছিল, তাহার ক্রুদ্ধ আহবান শুনিতে পাইল না। তখন ঘরের প্রদীপট হাতে লইয়া বারান্দার ধারে আসিয়া চেঁচাইয়া বলিলেন, তুই কি কানের মাথা খেয়েচিস লা ? শুনতে পাসনে, উপীনবাৰু একঘণ্টা বাইরে দাড়িয়ে ডাকাডাকি কচ্চেন ? এ চীৎকার ঝি শুনিতে পাইল এবং উপেন্দ্রর নাম শুনিয়া ধড়ফড় করিয়া উঠিয়া পড়িয়া চুটিয়া গিয়া কবাট খুলিয়া ফেলিল, কিন্তু কেহই নাই। বাহিরে গলা বাড়াইয়া অন্ধকারে যতদূর দেখা যায়, ভাল করিয়া দেখিয়া কাহাকেও দেখিতে না পাইয়া ফিরিয়া আসিয়া বলিল, কেউ নেই ত মা ! অঘোরময়ী প্রদীপ-হাতে উদ্বিগ্ন হইয়া অপেক্ষা করিতেছিলেন, অবিশ্বাস করিয়া বলিলেন, নেই কি রে! আমি যে নিজের কানে তার ডাক শুনলুম। তুই গলির মধ্যে গিয়ে একবার দেখলিনে কেন ? ঝি বলিল, দেখেচি, কেউ নেই । কথাটা বিশ্বাস করিবার মত নয়। উপীন কাল আসে নাই, আজও আসিবে না ? তাই বিরক্ত হইয়াই বলিলেন, তুই আর একবার ভাল করে দেখ, দেখি, কেউ আছে কি না ? বাহিরে অন্ধকার গলির মধ্যে যাইতে ঝির আপত্তি ছিল । সেও বিরক্ত হইয়া জবাব দিল, তোমার এ কি কথা মা ! তিনি কি লুকোচুরি খেলচেন যে, অন্ধকার গলির মধ্যে গিয়ে হাতড়ে দেখতে হবে । বলিয়া সে নিজের কাজে মন দিল । অঘোরময়ী ঘরে ফিরিয়া আসিয়া নিজীবের মত বিছানায় গুইয়া পড়িলেন। পীড়িত সস্তানের সংবাদ লইবার উৎসাহও রহিল না। র্তাহার ফিরিয়া ফিরিয়া 为为姆