প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (একাদশ সম্ভার).djvu/১৩০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ ই, খুব সুন্দরী। কিরণময়ী মৃদ্ধ হাসিয়া বলিল, আমার মতন ? সতীশ মুখ নীচু করিয়া রহিল ; খানিক পরে কি ভাবিয়া লইয়া মুখ তুলিয়া জিজ্ঞাসা করিল, আপনি, কি এ-কথা সত্যিই জানতে চান ? সত্যি বই কি ঠাকুরপো । সতীশ বলিল, দেখুন, আমার মতামতের বেশী দাম নেই। কিন্তু যদি থাকে, তা হলে এই বলি আমি, আপনার মত রূপ বোধকরি পুথিবীতে আর নেই। , কিরণময়ী কি একটা জবাব দিতে যাইতেছিল, কিন্তু ঠিক এইসময়ে নীচে ডাকাডাকির শবো সে উঠিয়া পড়িল । মা কালীবাড়ি হইতে ফিরিয়া আসিয়াছেন । সতীশ তাহার জল-খাওয়া শেষ করিয়া বাহিরে আসিতেই অঘোরময়ীর সম্মুখে পড়িয়া গেল। তিনি মুখপানে চাহিয়া বধূকে জিজ্ঞাসা করিলেন, উপনের ভাই না বোমা ? সে কোথায় ! কিরণময়ী বলিল, তিনি বাড়ি ফিরে গেছেন । অঘোরময়ী সংক্ষেপে "ভাল বলিয়া তাহার সিন্দূর ও চন্দন চর্চিত মুখখানি কালি করিয়া তাহার ছেলের ঘরের মধ্যে চলিয়া গেলেন । সতীশ কহিল, আমি তবে যাই বৌঠাকরুণ । কিরণময়ী অন্যমনস্কভাবে বলিল, এস । সতীশ দুই-এক পা গিয়াই ফিরিয়া আসিয়া, বলিল, উপনদী চিঠি দিয়েছেন । জানতে চেয়েছেন, হারানদার চিকিৎসা কিরূপ হচ্ছে । কিরণময়ী বলিল, চিকিৎসা বন্ধ আছে। যে ডাক্তার দেখছিল, তাকে দেখান অমত ; অথচ, কি মত, তাও বলে যাননি । সতীশ আশ্চৰ্য্য হইয়া বলিয়া উঠিল, সে কি কথা ! চিকিৎসা একেবারে বন্ধ করে বসে আছেন—এ কি-রকম ব্যবস্থা ? so ব্যবস্থা না করেই তিনি চলে গেছেন। আমার মনে হচ্ছে, একবার যেন তিনি বলেছিলেন, সতীশ রইল, সে-ই ব্যবস্থা করবে—তুমি তো আসিনি ঠাকুরপো । সতীশ ক্ষণকাল অবাক হইয়া দাড়াইয়া থাকিয়া কহিল, কাল সকালেই আসব, বলিয়াই দ্রুতপদে বাহির হইয়া গেল। সতীশ চলিয়া গেলে, কিরণময়ী স্বামীর ঘরের কবাট একটুখানি খুলিয়া দেখিয়া লইল, তিনি একটা মোটা তাকিয়া হেলান দিয়া মায়ের সহিত আস্তে আস্তে কথা কহিতেছেন। তাহার আজো সন্ধ্যায় জর আসে নাই, এই খবরটুকু লইয়াই সে নিশৰে ফিরিয়া আসিল, এবং বাহিরের অন্ধকারে চুপ করিয়া বসিয়া অপূৰ্ব্ব মমতার

  • २ ७