প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (একাদশ সম্ভার).djvu/১৩২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ ভাল থাকলেই ভাল। আমাকে তাহলে আর আবশ্বক নেই, কি বল ? কিরণময়ী তাহার উত্তরে ঘাড় নাড়িয়া বলিল, না— ডাক্তার কহিলেন, তোমাদের আবশ্বক না থাকলেও আমার আবশ্বক এখনও শেষ হয়নি, এইটুকু বলার জন্যই আমাকে এতদূর পর্য্যন্ত আসতে হ’লো। কিরণময়ী মুখ না তুলিয়াই ধীরে ধীরে বলিল, বেশ ত, মা এখনও জেগে আছেন, তাকে বলা দরকার—আমাকে বলা নিরর্থক । ডাক্তার মুখখানা অতি ভীষণ করিয়া পুনৰ্ব্বার কহিলেন, আমি তার কাছ থেকেই আসছি। তিনিও বলেন প্রয়োজন নাই। প্রয়োজন যে শেষ হয়েছে, সে আমিও বুঝেচি, কিন্তু ডাক্তার-বিদায় বলে একটা কথা আছে, সেটা ভুলে গেলে ত চলে না । কিরণময়ী চুপ করিয়া রহিল। ডাক্তার শ্লেষ করিয়া বলিতে লাগিলেন, আজ পাঁচ-ছ মাস পরে এই ভারটা তুমিই নেবে, কিংবা তোমার শাশুড়ই নেবেন, সে তোমাদের কথা, কিন্তু যাও বললেই ত ডাক্তার যায় না কিরণ ! ডাক্তারের মুখ দিয়া তাহার নিজের নাম আজ হঠাৎ যেন তীরের মত তাহাকে বিধিল। সে এমনি শিহরিয়া উঠিল যে, ওই ক্ষীণ আলোকেও ডাক্তার তাহা দেখিতে পাইল । কিরণময়ী মৃদুকণ্ঠে জিজ্ঞাসা করিল, কি চান আপনি, টাকা ? ডাক্তার হাসির ভাণ করিয়া বলিলেন, "আপনি কেন কিরণ ? এখানে আর কেউ নেই, “তুমি বললেও দোষ হবে না। কিন্তু এতদিন কি চেয়েছিলুম শুনি ? সে কি টাকা ? পুনৰ্ব্বার কিরণময়ীর সর্বাঙ্গ কাটা দিয়া উঠিল । ডাক্তার বলিলেন, টাকা চাইনে এ-কথা বলা শক্ত। এখন তোমার ও-অভাব যখন নেই, তখন টাকা দিয়েই বিদেয় কর । আমি—দু’দিকেই ঠকতে রাজি নই! কিন্তু, তুমি যে এতদিনে আমার মনের কথাটা টের পেয়েচ, এজন্য তোমাকে ধন্যবাদ দিই। আজ আর বেশী বিরক্ত করব না, বলি, কাল একবার আসতে পারি ? এই লোকটি ভিতরে ভিতরে যে কিরূপ দগ্ধ হইতেছিল এবং এই সমস্ত যে তাহারই উৎক্ষিপ্ত ভগ্নাবশেষ, কিরণময়ী তাহ নিশ্চিত বুঝিয়াও শান্ত-দৃঢ়স্বরে মুখ তুলিয়া কহিল, না। আপনি একটু দাঁড়ান, আমি এখনি এনে দিচ্ছি, বলিয়াই পাশের দরজা খুলিয়া ফ্রভপদে চলিয়া গেল । এইবার ডাক্তার শঙ্কিত হইয়। উঠিলেন । কিরণকে তিনি চিনিতেন । কোথায় কি যে আনিতে গেল, হঠাৎ এগুরাত্রে কি একটা অসন্তৰ কাণ্ড কলিয়৷ কোথাকায় ১২২