প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (একাদশ সম্ভার).djvu/১৩৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


চরিত্রহীন ভিতর হইতে মূছকণ্ঠের আহবান আসিল, ঘরে এস। দিবাকর প্রবেশ করিয়া দেখিল, আলমারি উজাড় করিয়া স্বরবালা নত-মুখে বসিয়া তোরঙ্গ সাজাইতেছে ; জিজ্ঞাসা করিল, ছোড়দা মফঃস্বলে যাবেন ? স্বরবালা তেমনিভাবে কহিল, না, কলকাতায় যাবেন । ইহার পরে আর দিবাকরের মুখে কথা যোগাইল না। নিজের নির্জন ঘরের মধ্যে যে শক্তি তাহাকে ঠেলিয়া তুলিয়া দিয়া এতদূরে আনিয়াছিল, প্রয়োজনের সময় সে শক্তি অন্তৰ্দ্ধান করিল। সে মৌন-মুখে ভাবিতে লাগিল, কি করিয়া শুরু করা যায় । এমন সময় বারান্দায় জুতার শব্দ শোনা গেল, এবং পরক্ষণেই উপেন্দ্র পরদা সরাইয়৷ ঘরে ঢুকিলেন। দিবাকর অত্যন্ত সঙ্কুচিত হইয়া পলাইবার উপক্ৰম করিতেই উপেন্দ্র ‘দাড়া’ বলিয়া ধীরে-সুস্থে খাটের উপর বসিলেন এবং জামা খুলিতে খুলিতে জিজ্ঞাসা করিলেন, ফেল হলি কি করে ? রোজ রাত্রি একটা পৰ্য্যস্ত জেগে জেগে এতদিন তবে করেছিলি কি ? - এ-কথার আর জবাব কি ? দিবাকর অধোবদনে দাড়াইয়া রহিল । উপেন্দ্র বলিতে লাগিলেন, এ বাড়িতে থেকে তোর কিছু হবে না দেখচি। যা কলকাতায় গিয়ে পড়গে, তা হলে যদি মানুষ হতে পারিস ! তারপর একটু হাসিয়া বলিলেন, বৌদির কাছে কি দরবার করতে এসেছিলি ? বিয়ে করবিনে, এই ত ? কথা শুনিয়া দিবাকর বাচিয়া গেল। তাহার সমস্ত দুঃখ যেন একেবারে ধুইয়া মুছিয়া গেল, সে সহসা হাসিয়া ফেলিয়া মুখ তুলিয়া চাহিল! উপেন্দ্ৰ হাসিলেন, যদিচ সে হালির মৰ্ম্ম কেহ বুঝিল না, তারপরে বলিলেন, আচ্ছা, এখন মন দিয়ে পড়গে—আগামী অগ্রহায়ণ পৰ্য্যন্ত তোর ছুটি—তার এখনও অনেক বাকী। স্ত্রীর দিকে চাহিয়া বলিলেন, সতীশ টেলিগ্রাফ করেছে, হারানদার অবস্থা ভারি খারাপ—আমি রাত্রির ট্রেন পৰ্য্যন্ত অপেক্ষা করতে পারব না, এই এগারটার গাড়িতেই যাব, একবার থারমোমিটারটা দাও ত দেখি, জরটা ছাড়ল কি না— ওকি, অত বড় তোরঙ্গ কি হবে ? একটা ছোট-খাটো দেখে দাও না । স্বরবালা কাপড় পাট করিয়া তোরঙ্গ বোঝাই করিতেছিল, কাজ করিতে করিতে মৃদুস্বরে কহিল, ছোট তোরঙ্গে দুজনের কাপড় আটবে না—আমিও সঙ্গে যাব। উপেন্দ্র অবাক হইয়া কহিলেন, তুমি যাবে! ক্ষেপে গেলে না কি ? মুরবালা মুখ না তুলিয়াই বলিল, না। পরে দিবাকরের উদ্বেগু কহিল, ঠাকুরপো, একটু শীগগির করে স্নান করে খেয়ে নাও, তুমিও আমার সঙ্গে যাবে। » ኟዓ ,