প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (একাদশ সম্ভার).djvu/১৮

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


रै। মাস-তিনেক পরে কলিকাতার একটা বাসায় একদিন সকালবেলায় ঘুম ভাঙ্গিয়৷ সতীশ বিছানায় এ-পাশ ও-পাশ করিতে করিতে হঠাৎ স্থির করিয়া বসিল, আজ সে স্কুলে যাইবে না। সে হোমিওপ্যাথি স্কুলে পড়িতেছিল। এই কামাই করিবার সঙ্কল্পটা তাহার মনের মধ্যে স্বধা-বর্ষণ করিল এবং মুহূর্বের মধ্যে বিকল দেহটাকে সবল করিয়া তুলিল। সে প্রফুল্ল-মুখে উঠিয়া বসিয়া তামাকের জন্য হাকাহাকি করিতে লাগিল । ঘরে ঢুকিল সাবিত্রী। সে অনতিদূরে মেঝের উপর বসিয়া পড়িয়া হাসিমুখে জিজ্ঞাসা করিল, ঘুম ভাঙলে বাৰু? সাবিত্রী বাসার বি এবং গৃহিণী ? চুরি করিত না বলিয়া বাসার খরচের টাকাকড়ি সমস্তই তাহার হাতে । একহারা অতি সুশ্ৰ গঠন । বয়স বোধ করি একুশবাইশের কাছাকাছি, কিন্তু মুখ দেখিয়া যেন আরও কম বলিয়া মনে হয়। সাবিত্রী ফরসা কাপড় পরিত এবং ঠোট দুটি পান ও দোক্তার রসে দিবারাত্রি রাঙা করিয়া রাখিত। সে হাসিয়া কথা কহিতে যেমন জানিত, সে হাসির দামটিও ঠিক তেমনি বুঝিত। গৃহস্থখ-বঞ্চিত বাসার সকলের উপরই তাহার একটা আন্তরিক স্নেহমমতা ছিল । অথচ, কেহ মুখ্যাতি করিলে বলিত, যত্ন না করলে আপনার রাখবেন কেন বাবু তা ছাড়া, বাড়ি গিয়ে গিল্পীদের কাছে নিন্দে করে বলবেন, বাসার এমন ঝি যে, পেট ভরে দুবেল খেতেও দেয় না—ও অপযশের চেয়ে একটু খাট ভালোঁ, বলিয়া হাসিমুখে কাজে চলিয়া যাইভ । বাসার মধ্যে শুধু সতীশই তাহার নাম ধরিয়া ভাকিত। যা-ত পরিহাস করিত এবং যখন-তখন বকৃশিশ দিত। সতীশের উপর তাহার স্নেহটা কিছু অতিরিক্ত ছিল । সারাদিন সমস্ত কাজ-কর্মের মধ্যে বোধ করি এইজন্যেই সে তাহার একটি চোখ এবং একটি কান এই উন্নত বলিষ্ঠ চারুদৰ্শন যুবকটির উদ্দেশে নিযুক্ত রাখিত । বাসার সকলেই ইহা জানিত, এবং কেহ কেহ সকৌতুক ইঙ্গিত করিতেও ছাড়িত না। সাবিত্ৰী জবাব দিত না, মুখ টিপয় হাসিয়া কাজে চলিয়া যাইত । সতীশ কহিল, ই, ঘুম ভাঙলো। বলিয়াই বালিশের তলা হইতে একটা টাকা ঠং করিয়া ফেলিয়া দিল । সাবিত্রী টাকাটা তুলিয়া লইয়া বলল, সকালবেলায় আবার কি আনতে হবে ? সতীশ বলিল, সন্দেশ ! কিন্তু আমার জন্তে নয়। এখন রেখে দাও, রাত্রে তোমার বাবুর জন্তে কিনে নিয়ে যেয়ে ।